ইসলাম কী যুন্ধবন্দী দাসীদের সাথে জোরপূর্বক যৌন সম্পর্কের অনুমতি দেয়?
আধুনিক সময়ে অমুসলিমরা ইসলাম নিয়ে নানা বিভ্রান্তিকর ও ভূল দাবি প্রচার করে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ইসলাম ও দাস প্রথা নিয়ে তাদের মনগড়া ব্যাখ্যা, যেখানে তারা দাবি করে যে ইসলাম যুদ্ধবন্দী দাসীদের সাথে জোরপূর্বক যৌন সম্পর্কের বৈধতা দেয়। তারা ইসলামের মূল নীতিকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে, যাতে পাঠক বা দর্শকরা ইসলামকে নৈতিকভাবে অবমানিত মনে করে। এই লিখায় আমি নাস্তিকদের এই ধরনের অভিযোগ এবং দাসীর সঙ্গে সহবাস সম্পর্কিত তাদের ভুল ধারণা বিস্তারিত তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।
নাস্তিকদের অভিযোগের উৎস
ইসলামে দাস-দাসী বলতে মূলত যুদ্ধবন্দীদের বোঝানো হয়। এই বিষয়ে আশা করি সকলের ধারণা আছে। যাঁরা মুসলিমদের সঙ্গে সংঘর্ষে পরাজিত হয়ে বন্দী হন, তাদের প্রতি মুসলিমদের করণীয় কী, তাদের সঙ্গে কেমন আচরণ করতে হবে, তাদের অধিকার কী—এসব বিষয়ে ইসলামে সুস্পষ্ট বিধান প্রদান করা আছে। নিয়মানুযায়ী যুদ্ধবন্দীদের মর্যাদা রক্ষা, সম্মান প্রদর্শন এবং ন্যায়সঙ্গত আচরণ নিশ্চিত করা ইসলামের মৌলিক শিক্ষার অংশ। তেমনি একটি বিধান হলো যুদ্ধবন্দী নারীদের সাথে ইসলাম সহবাস করাকে হালাল করেছেন।
আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কুরআনে বলেন;
নারীদের মধ্যে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ নারীগণও তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ, কিন্তু তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীদের বাদে, আল্লাহ এসব ব্যবস্থা তোমাদের উপর ফরয করে দিয়েছেন। তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ নারীদের ছাড়া অন্যান্য সকল নারীদেরকে মোহরের অর্থের বদলে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করতে চাওয়া তোমাদের জন্য বৈধ করা হয়েছে, অবৈধ যৌন সম্পর্কের জন্য নয়। অতঃপর তাদের মধ্যে যাদের তোমরা সম্ভোগ করেছ, তাদেরকে তাদের ধার্যকৃত মোহর প্রদান কর। তোমাদের প্রতি কোনও গুনাহ নেই মোহর ধার্যের পরও তোমরা উভয়ের সম্মতির ভিত্তিতে মোহরের পরিমাণে হেরফের করলে, নিশ্চয় আল্লাহ সবিশেষ পরিজ্ঞাত ও পরম কুশলী। (( (4:24) An-Nisa | (৪:২৪) আন-নিসা-অনুবাদ/তাফসীর ))
হাদিসে এসেছে;
পরিচ্ছেদঃ ৬. প্রথম অনুচ্ছেদ - সদাক্বার মর্যাদা
১৮৯৮-[১১] আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক ’তাসবীহ’ অর্থাৎ সুবহা-নাল্ল-হ বলা সদাক্বাহ্ (সাদাকা), প্রত্যেক ’তাকবীর’ অর্থাৎ আল্ল-হু আকবার বলা সদাক্বাহ্ (সাদাকা), প্রত্যেক ’তাহমীদ’ বা আলহাম্দুলিল্লা-হ বলা সদাক্বাহ্ (সাদাকা)। প্রত্যেক ’তাহলীল’ বা ’লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ’ বলা সদাক্বাহ্ (সাদাকা)। নেককাজের নির্দেশ দেয়া, খারাপ কাজ থেকে ফিরিয়ে রাখা সদাক্বাহ্ (সাদাকা)। নিজের স্ত্রী অথবা দাসীর সাথে সহবাস করাও সদাক্বাহ্ (সাদাকা)। সাহাবীগণ আরয করলেন, হে আল্লাহর রসূল! আমাদের কেউ যদি নিজের কামভাব চরিতার্থ করে তাতেও কি সে সাওয়াব পাবে? উত্তরে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমাকে বলো, কোন ব্যক্তি যদি হারাম উপায়ে কামভাব চরিতার্থ করে তাহলে সেকি গুনাহগার হবে না? ঠিক এভাবেই হালাল উপায়ে (স্ত্রী অথবা দাসীর সাথে) কামভাব চরিতার্থকারী সাওয়াব পাবে। (মুসলিম)[1]
[1] সহীহ : মুসলিম ১০০৬, আহমাদ ২১৪৮২, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৭৮২৩, সিলসিলাহ্ আস্ সহীহাহ্ ৪৫৪, সহীহ আত্ তারগীব ১৫৫৬, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ২৫৮৮। (( মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত) | হাদিস: ১৮৯৮ | Mishkat al-Masabih, Hadith No. 1898 ))
কুরআন এবং হাদিসে উল্লেখিত রয়েছে, যুদ্ধবন্দী দাসীদের সাথে সহবাস করা বৈধ। তাই নাস্তিকদের অভিযোগ ইসলাম নাকি যুদ্ধবন্দীদের ধর্ষনের অনুমতি বা ধর্ষণের বৈধতা দেয়।
ইসলাম কী আসলে যুন্ধবন্দীদের সাথে জোরপূর্বক যৌন সম্পর্কের বৈধতা দেয়?
পাঠক, আপনারা যদি কুরআনের আয়াত ও হাদীসসমূহ একত্রে পর্যালোচনা করেন, তাহলে সর্বত্রই দেখতে পাবেন—ইসলামে যুদ্ধবন্দী বা দাসীদের সঙ্গে সহবাসকে বৈধ, জায়েয ও হালাল বলা হয়েছে। কিন্তু অন্ধবিশ্বাসী নাস্তিকদের দাবি কী? তাদের দাবি হলো—ইসলাম নাকি দাসীদের ধর্ষণের অনুমতি দিয়েছে!
ভালো করে লক্ষ্য করুন—কুরআন ও হাদীসে স্পষ্ট বলা হয়েছে “সহবাস বৈধ”, কিন্তু নাস্তিকরা সেটাকেই বিকৃত করে “জোরপূর্বক ধর্ষণ” বলে প্রচার করছে। কত বড় মিথ্যাচার এটি!
কোনো কিছু বৈধ হওয়ার মানে কি তা জোর করে করতে হবে? ইসলামে নারী ও পুরুষের জন্য ১৪ জন আত্মীয় ব্যতীত অন্য সবার সঙ্গে বিবাহ বৈধ। কিন্তু তার মানে কি একজন পুরুষ দুনিয়ার সব নন-মাহরাম নারীকে জোরপূর্বক বিবাহ করতে পারেন? কখনোই না।
মাছ খাওয়া হালাল। কিন্তু এর মানে এই নয় যে সবাইকে মাছ খেতেই হবে। ইচ্ছা করলে খাওয়া যায়, না চাইলে নয়। একইভাবে, দাসীর সঙ্গে সহবাস ইসলামে বৈধ বা হালাল বিষয়—এর মানে এই নয় যে তা জোরপূর্বক হতে হবে। বরং এটি নির্দিষ্ট নৈতিক ও আইনি কাঠামোর ভেতরে, সম্মতির ভিত্তিতে বৈধ।
নাস্তিকদের দাবী ইসলাম দাসীদের ধর্ষনের বৈধতা দেয়। তাই আমাদের শুরুতে ইসলামে ধর্ষণ কাকে বলে সেটা জেনে নেওয়া দরকার।
ইসলামী শরিয়তের পরিভাষায় ‘ধর্ষণ’ কাকে বলে?
‘ধর্ষণ’ প্রসঙ্গে অভিধানে বলা হয়েছে,
وَفِي لِسَان الْعَرَب: وَقد تَكَرَّر ذِكْرُ الغصْب فِي الحَدِيث، وَهُوَ أَخْذُ مَالِ الغَيْرِ ظُلْماً وعُدُواناً. وَفِي الحَدِيثِ (أَنَّه غصَبَها نَفْسَها) أَرادَ أَنَّه وَاقَعها كُرْها فاسْتَعَارَه لِلْجِمَاع.
অর্থঃ "লিসানুল আরব"-এ বলা হয়েছে, হাদিসে "غَصْب" (জবরদখল বা বলপ্রয়োগ) বারবার এসেছে, এবং এটি অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে ও জোরপূর্বক গ্রহণ করাকে বোঝায়।
একটি হাদিসে এসেছে: "أنه غصَبَها نَفْسَها" এর অর্থ হলো, “সে তার সাথে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে সহবাস করেছিল (বা ধর্ষণ করেছিল)” ; এবং এখানে সহবাস বোঝাতে শব্দটি রূপক অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। (( তাজুল ‘আরুস মিন জাওয়াহিরিল ক্বামুস – মুর্তাযা আয-যাবিদি, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৪৮৪।(( ص484 - كتاب تاج العروس من جواهر القاموس - غشرب - المكتبة الشاملة ))
ইসলামী শরিয়তে ধর্ষণকে এভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয় –
“একজন পুরুষের দ্বারা একজন নারীর সাথে জোরপূর্বক অবৈধ যৌন সঙ্গম, যেখানে নারী তার সাথে বৈধভাবে বিবাহিত নয় এবং তার স্বাধীন ইচ্ছা ও সম্মতি ছাড়াই এটি সংঘটিত হয়।”
(( "Forcible illegal sexual intercourse by a man with a woman who is not legally married to him, without her free will and consent"- Azman Mohd Noor (1 January 2010). "Rape: A Problem of Crime Classification in Islamic Law". Arab Law Quarterly, Vol. 24, No. 4 (2010), pp. 417-438. Rape: A Problem of Crime Classification in Islamic Law in: Arab Law Quarterly Volume 24 Issue 4 (2010) ))
ইসলামী দণ্ডবিধিতে ধর্ষণকে জবরদস্তিমূলক ব্যাভিচারের আওতায় ফেলা হয়। (( দেখুনঃ মুয়াত্তা মালিক, বিচার সম্পর্কিত অধ্যায় (كتاب الأقضية); بَاب الْقَضَاءِ فِي الْمُسْتَكْرَهَةِ مِنْ النِّسَاءِ (পরিচ্ছেদঃ ১৬. কোন স্ত্রীলোকের সাথে জবরদস্তি যিনা করিলে তাহার ফয়সালা) মুয়াত্তা মালিক | হাদিস: ১৪৩৫ | Muwatta Imam Malik, Hadith No. 1435 ))
নাস্তিকরা যে বলে ইসলামে দাসীদের সাথে জোরপূর্বক যৌন সম্পর্ক করা জায়েজ। কিন্তু জোরপূর্বক সহবাস করা তো ইসলামে ধর্ষণ বা ব্যবিচার হিসবে বিবেচিত হয়। আর ইসলামে ব্যবিচার হারাম কাজ। সুতরাং, স্বাভাবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও একথা গ্রহণযোগ্য নয় যে, ইসলাম দাসীদের জোরপূর্বক সহবাসের বৈধতা দেয়। এছাড়াও আমাদের কাছে ইসলামী স্কলারদের ফতোয়া রয়েছে যেখানে তিনারা দাসীদের সাথে জোরপূর্বক সহবাস করাকে হারাম করেছেন।
ইমাম শাফিঈ (রহ) বলেন,
আর যদি সে (স্ত্রী বা দাসী) তার প্রতি অনাগ্রহী হয়, তাহলে সহবাস (الايجاع) কোনো কামলিপ্সা বা আনন্দের বিষয় নয়, এবং কাউকে এতে জোর করা বৈধ নয়। (( "কিতাবুল উম্ম"; ইমাম মুহাম্মাদ বিন ইদ্রিস আশ-শাফিঈর (রহ.) ১৫০- ২০৪ হিজরি। তাহকিক ও তাখরিজ:ডক্টর রিফাত ফাওযী আবদুল মুত্তালিব কর্তৃক; ষষ্ঠ খণ্ড পৃষ্ঠা ৪৮২। প্রকাশনী:দার আল-ওয়াফা, ২০০১ ))
ইমাম শাফিঈ (রহ.) এখানে স্পষ্ট করে বলেছেন—যদি দাসী বা স্ত্রী অনাগ্রহী হয়, তবে জোরপূর্বক সহবাস করা বৈধ নয়। ইসলাম পুরুষকে এমন কোনো অধিকার দেয়নি যে সে ইচ্ছামতো জোর করে সম্পর্ক স্থাপন করবে। বরং তাকেও আল্লাহভীতি অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দাস-দাসী প্রসঙ্গে কুরআন ও হাদিসের বক্তব্যগুলোকে সার্বিকভাবে বিবেচনা করে এ প্রসঙ্গে প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ও ফকিহ আবু আব্দুল্লাহ আল হালিমি(র.) [মৃত্যু ৪০৩ হিজরি/১০১২ খ্রিষ্টাব্দ] উল্লেখ করেছেন –
وأَن يُعْتِقُهُ مُتَبَرِّعًا أَحُسْنٌ وَأَجْمَلُ أَن يَلْزَمُهُ بَدَلَا ، وإِذَا اِشْتَرَى رَجُلٌ بِه عَاهَةِ مستقدرَة عَبْدًا لِيَخْدُمُهُ ، فإِنّ كَرِهَ الْعَبْدُ صِحَّتَهُ ، فَلَيَبِيعُهُ وإِن اِشْتَرَى جَارِيَةً فَكَرِهَتْ أَن يُسَمِّهَا أَو يُضَاجِعُهَا ، فلَا يَمَسُّهَا ولَا يُضَاجِعُهَا ولَا يَطَأُهَا إِلَّا بِإِذْنِهَا ، وَبَيْعَهَا إِنّ أَرَادَتْ ذَلِك وَالْإحْسَانُ إِلَى الْمَمْلُوكِ يَجْمَعُ الشُّكْرُ لِلَهَّ تُعَالَى عَلَى الْفِكَاكِ وَالسلَّامَةِ مِن ذُلِّ الرِّقِّ ، وَالْعَدْلَ وَالْإِنْصَافَ فَيَمَنَ يَضُمُّهُ الْمَلِكُ ، واستطباة نَفْس الْمُلُوكِ ، وَاِسْتِجْلَاَبَ طَاعَتِهِ ومناصحته ، ففِيه نَظَرَ لِلْمَالِكُ دنِيًّا وَدِينًا ، وَنَظَرٌ لِلْمُلُوكَ وَبِذَٰلِكَ جَاءَت الْأَخْبَارُ مُجْمَلَةً وَمُفَصَّلَةً
অর্থঃ “আর কোনো বিনিময়ের আশা না করে স্বেচ্ছায় তাকে [দাসকে] মুক্ত করে দেয়া অধিক উত্তম কাজ। যদি শারিরীক বিকলাঙ্গতা আছে এমন কেউ একজন দাস ক্রয় করে নিজের খেদমতের জন্য, আর সেই দাস তার [মনিবের] স্বাস্থ্যগত বিষয় অপছন্দ করে, তাহলে [তাকে কষ্ট না দিয়ে] সে তাকে বিক্রি করে দেবে। যদি কেউ একজন দাসী ক্রয় করে এবং ঐ দাসী যদি তার [মনিব] কর্তৃক স্পর্শ করা বা তার সাথে শোয়া অপছন্দ করে, তাহলে সে তার [দাসীর] অনুমতি ছাড়া তাকে স্পর্শ করবে না, তার সাথে শোবে না আর তার সাথে সহবাসও করবে না। আর সে [দাসী] যদি চায় তবে তাকে সে বিক্রি করে দেবে। দাসের প্রতি অনুগ্রহ করা মানে আল্লাহ তা’আলার শুকরিয়া আদায় করা, কারণ তিনি [সেই মনিবকে] দাসত্বের অপমান থেকে মুক্তি ও নিরাপত্তা দিয়েছেন। শাসক যার উপর শাসন করেন, তাদের প্রতি ন্যায়বিচার ও ইনসাফ করা, শাসিতদের কল্যাণ কামনা করা, তাদের আনুগত্য নিশ্চিত করা এবং আন্তরিক পরামর্শ প্রদান করা — এসব বিষয় সে শাসকের দুনিয়া ও দ্বীন উভয়ের জন্যই কল্যাণকর। এটি শাসিতদের জন্যও কল্যাণকর। আর তা শাসকদের জন্য নিদর্শনস্বরূপ। এ ব্যাপারে সংক্ষিপ্ত ও বিষদভাবে বহু বর্ণনা [হাদিস] এসেছে।” (( মিনহাজ ফি শু’আবিল ঈমান – আবু আব্দুল্লাহ আল হালিমি, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ২৬৭। ص267 - كتاب المنهاج في شعب الإيمان - الثامن والخمسون من شعب الإيمان وهو باب في الإحسان إلى المماليك - المكتبة الشاملة ))
সহবাসের ক্ষেত্রে দাসীর অনুমতি লাগবে কিনা বা দাসীর সাথে জোরাজুরি করার কোনো বিষয় ইসলামে আছে কিনা এ প্রসঙ্গে Islamic Online Madrasah (IOM) এর ইফতা বিভাগে সুনির্দিষ্টভাবে প্রশ্ন করা হলে তাঁরাও অনুরূপ উত্তর প্রদান করেন;
দাসীদের সাথে সহবাসের ক্ষেত্রে ইসলাম অন্য কিছু ধর্মের ন্যায় জোর করার অনুমতি দেয় না। এক্ষেত্রে ইসলামের বিধান হলো দাসীদের সাথে সহবাস কেবল তাদের সন্তুষ্টি চিত্তেই হবে। জোরপূর্বক নয়। (( ইসলামে ক্রীতদাসী এর সাথে সহবাস কেন বৈধ? - Islamic Fatwa ))
ইমাম ইবন হাজার আসকালানী (র.) বলেন,
قَوْلُهُ: (بَابُ لَا يَجُوزُ نِكَاحُ الْمُكْرَهِ) الْمُكْرَهُ بِفَتْحِ الرَّاءِ.
قَوْلٌ: ﴿وَلا تُكْرِهُوا فَتَيَاتِكُمْ عَلَى الْبِغَاءِ﴾
...
وَقَدِ اسْتَشْكَلَ بَعْضُهُمْ مُنَاسَبَةَ الْآيَةِ لِلتَّرْجَمَةِ وَجَوَّزَ أَنَّهُ أَشَارَ إِلَى أَنَّهُ يُسْتَفَادُ مَطْلُوبُ التَّرْجَمَةِ بِطَرِيقِ الْأَوْلَى لِأَنَّهُ إِذَا نَهَى عَنِ الْإِكْرَاهِ فِيمَا لَا يَحِلُّ فَالنَّهْيُ عَنِ الْإِكْرَاهِ فِيمَا يَحِلُّ أَوْلَى.
অর্থঃ “তাঁর বাণীঃ (অধ্যায়: জবরদস্তি করে বিয়ে বৈধ নয়)— المُكْرَهُ শব্দটি ر (রা) অক্ষরে ফাতহা (যবর) সহ উচ্চারিত হবে।
[আল্লাহর] বাণীঃ "আর তোমরা তোমাদের দাসীদেরকে ব্যভিচারে বাধ্য কোরো না..." (সুরা নুর ২৪ : ৩৩)
... ... ...
যদি এমন বিষয়ে জবরদস্তি করা নিষিদ্ধ হয় যা হারাম, তবে যে বিষয়ে অনুমতি আছে, সেখানে জবরদস্তি নিষিদ্ধ হওয়া আরও অধিক প্রযোজ্য।” (( ফাতহুল বারী – ইবন হাজার আসকালানী, খণ্ড ১২, পৃষ্ঠা ৩১৯। ص319 - كتاب فتح الباري بشرح البخاري ط السلفية - باب إذا أكره حتى وهب عبدا أو باعه لم يجز - المكتبة الشاملة ))
সুতরাং, ইসলামী নীতি কিংবা দলিল কোনোটির আলোকেই একথা গ্রহণযোগ্য নয় যে ইসলাম যুদ্ধবন্দী দাসীদের সাথে জোরপূর্বক যৌন সম্পর্কের অনুমতি দেয় কিংবা বৈধতা দেয়।