প্রশ্ন করুন
সকল প্রশ্নোত্তর তালিকায় ফিরে যান
প্রশ্ন
মোঃ নাজমুল হক ইসলাম 27 Jun 2026

বনু তাঈ গোত্রে অকারণে আক্রমণ করে কেন তাদের বন্দি করা হলো?
👉(আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া খন্ড ৫ পৃষ্ঠা ১২৩-১২৪)

তাদের কোনো দোশ ছিলনা, এর পরেও আক্রমণ করা হয়। এমনকি আদী ইবনে হাতিমের বোনকে সহ অনেককে বন্দি করা হয়। এখানে কি নিরপরাধ মানুষকে দাস দাসি বানানো হলোনা?

(১) অকারনে (নিরপরাধদের উপর) আক্রমণ।
(২) নিরপরাধ মানুষকে বন্দি (দাস-দাসি)

অন্যান্য উত্তরসমূহ (1)

উত্তরদাতা: মুহাম্মাদ মুশফিকুর রহমান মিনার
27 Jun 2026, 05:42 PM

রাসুলুল্লাহ(স) কর্তৃক তাঈ গোত্রের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান প্রেরণের পেছনে কিছু কারণ ছিল। মক্কা বিজয়ের পর রাসুলুল্লাহ(স) আরব উপদ্বীপের সমস্ত প্রধান কুসংস্কার এবং মূর্তিপূজার কেন্দ্রগুলো ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন। তাঈ গোত্রটি একটি বড় এবং প্রভাবশালী গোত্র ছিল, যারা 'আল-ফুলস' নামক একটি বিশাল মূর্তির পূজা করত। এই মূর্তিকে কেন্দ্র করে তারা বিভিন্ন শিরক ও কুসংস্কারে লিপ্ত ছিল। মূর্তিটি ভেঙে ওই অঞ্চলে তাওহীদ প্রতিষ্ঠা করাই ছিল এই অভিযানের প্রধান উদ্দেশ্য। 
আলী ইবনে আবি তালিবের অভিযান (আল-ফুলস)- উইকিপিডিয়া 


ইসলামী শরিয়ত অনুসারে আরব উপদ্বীপ যেহেতু ওহী নাজিলের স্থান, এই অঞ্চলে শির্কের আস্তানা অবশিষ্ট রাখা নিষিদ্ধ। তবে আরব উপদ্বীপের বাইরে অমুসলিমরা জিজিয়া দিয়ে নিজ ধর্ম পালন করতে পারে, তাদের উপাসনালয়ও ভাঙা হয় না। 

তাঈ গোত্রের তৎকালীন নেতা আদি বিন হাতিম (যিনি তখনো খ্রিষ্টান ছিলেন) ইসলামের ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে নিজের নেতৃত্ব ও গোত্রের স্বাধীনতার জন্য হুমকি মনে করতেন। তারা মদিনা রাষ্ট্রের আনুগত্য স্বীকার করেনি, বরং তৎকালীন মুসলিম বিরোধী অন্যান্য মুশরিক ও পৌত্তলিক শক্তির সাথে জোটবদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। তাই সম্ভাব্য যেকোনো আঞ্চলিক বিদ্রোহ বা হামলা নস্যাৎ করতে এই প্রতিরোধমূলক অভিযান চালানো হয়। এই অভিযানের আরেকটি বড় কৌশলগত উদ্দেশ্য ছিল তাঈ গোত্রের প্রতিরোধ ভেঙে তাদের সত্যের মুখোমুখি করা। জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করা ইসলামের উদ্দেশ্য ছিল না, বরং তাদের দম্ভ চূর্ণ করা যাতে তারা মদিনা রাষ্ট্রের সাথে শান্তি চুক্তিতে আসতে বা ইসলামকে জানার সুযোগ পায়।

আদি বিন হাতিমের বোন যখন বন্দী হয়ে মদিনায় আসেন, তখন তাঁকে কোনো দাসী বা ক্রীতদাসী হিসেবে বিক্রি করা বা খাটানো হয়নি। তাঁকে মদিনায় সম্মানের সাথে রাখা হয়েছিল। তিনি যখন রাসুল(স) এর কাছে এসে নিজের বংশমর্যাদার কথা তুলে ধরেন এবং দয়া প্রার্থনা করেন, রাসুল(স) তৎক্ষণাৎ কোনো মুক্তিপণ ছাড়াই তাঁকে সসম্মানে বিনাশর্তে মুক্তি দেনকেবল মুক্তই করেননি, বরং তাঁকে নিরাপদ কাফেলার সাথে সিরিয়ায় তাঁর ভাইয়ের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।

আসলে সেই যুগের এই যুদ্ধগুলো ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট সহকারে বিবেচনা করা উচিত। তাঈ গোত্রের যে অংশটি বন্দী হয়েছিল, তারা কোনো শান্তিপূর্ণ সাধারণ নাগরিক ছিল না যারা যুদ্ধের বাইরে ছিল। তৎকালীন গোত্রীয় ব্যবস্থায় পুরো গোত্রই যুদ্ধের অংশ হিসেবে কাজ করত। আপনি আল বিদায়া ওয়ান নিহায়ার বাংলা অনুবাদের ৫ম খণ্ডের ১২৩ নং পৃষ্ঠাতেও দেখবেন নবী(স) এর প্রতি আদি বিন হাতিম কেমন শত্রুতা পোষণ করতেন। সেই যুগের যুদ্ধক্ষেত্রের আইন অনুযায়ীই ওই শিবিরের মানুষদের বন্দী করা হয়। ইসলাম যুদ্ধক্ষেত্রে সাধারণ নারী, শিশু এবং বৃদ্ধদের হত্যা করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে, যা তৎকালীন সময়ে এক বৈপ্লবিক মানবিক আইন ছিল। আর যাদের বন্দী করা হয়েছিল, তাদের ক্ষেত্রেও মূল লক্ষ্য ছিল শান্তি প্রতিষ্ঠা, দাসত্ব নয়।

আদি বিন হাতিমের বোন যখন তাঁর ভাইয়ের কাছে ফিরে যান, তখন তিনি মুসলিমদের এই অতুলনীয় মানবিক আচরণ দেখে মুগ্ধ হয়ে বলেছিলেন: "মুহাম্মদ(স) কোনো সাধারণ রাজা নন, তিনি আল্লাহর নবী। তাঁর কাছে দ্রুত চলে যাও।" 

তাঈ গোত্রের নেতা আদি বিন হাতিমকে কেমন অসাধারণ পন্থায় দাওয়াত ও অলৌকিক নিদর্শনের মাধ্যমে ইসলামের পথে আনেন নবী(স), তা জানার জন্য এই লেখাটি পড়ুন।
অবিচল আগন্তুক - ইসলামবিরোধীদের জবাব 

আর গোত্রপতির ইসলাম গ্রহণের দ্বারা পুরো গোত্রই সেই যুগে ইসলামে দাখিল হতো। এখানে জোর জুলুমের কোনো ব্যাপার ছিল না। 

আপনার উত্তর দিন