পবিত্র কুরআনে কী হুরদের উঁচু স্তনের কথা বলা হয়েছে?

পবিত্র কুরআনে কী হুরদের উঁচু স্তনের কথা বলা হয়েছে?

কুরআন মাজিদে কি হুরদের উঁচু স্তনের কথা বলা হয়েছে
وَّكَوَاعِبَ اَتْرَابًا ۙ Bangla - Bayaan Foundation আর সমবয়স্কা উদ্‌ভিন্ন যৌবনা তরুণী। Bangla - Fozlur Rahman সমবয়স্কা উন্নতবক্ষা (পূর্ণযৌবনা) তরুণী Bangla - Mufti Taqi Usmani সমবয়স্কা নব যৌবনা তরুণী, Bangla - Muhiuddin Khan সমবয়স্কা, পূর্ণযৌবনা তরুণী। Bangla - Mujibur Rahman এবং সম বয়স্কা যুবতীবৃন্দ; Bangla - Taisirul Quran আর সমবয়স্কা নব্য যুবতী Bangla - Tafsir Ahsanul Bayaan এবং উদ্ভিন্ন-যৌবনা সমবয়স্কা তরুণীগণ। (( (78:33) An-Naba' | (৭৮:৩৩) আন-নাবা-অনুবাদ/তাফসীর ))
ইসলাম বিদ্বেষীদের দাবী, আল্লহ তা'আলা পবিত্র কুরআনে মুমিনদেরকে জান্নাতের লোভ দেখানোর জন্য উঁচু স্তন বিশিষ্ট হুরদের কথা উল্লেখ করেছেন। এ বিষয়টিকে সামনে এনে তারা অনেক অশ্লীল ইঙ্গিতপূর্ণ কথার মাধ্যমে হাসি তামাসা করার চেষ্টা করে। কিন্তু আমরা জানি পবিত্র কুরআন মাজিদ শব্দ চয়নের ক্ষেত্রেও পবিত্রতা বজায় রেখেছে। এই যেমন ধরা যাক,
وَيَسْـَٔلُوْنَكَ عَنِ الْمَحِيْضِ ؕ قُلْ هُوَ اَذًي ۙ فَاعْتَزِلُوا النِّسَآءَ فِي الْمَحِيْضِ ۙ وَلَا تَقْرَبُوْهُنَّ حَتّٰي يَطْهُرْنَ ۚ فَاِذَا تَطَهَّرْنَ فَاْتُوْهُنَّ مِنْ حَيْثُ اَمَرَكُمُ اللّٰهُ ؕ اِنَّ اللّٰهَ يُحِبُّ التَّوَّابِيْنَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِيْنَ অর্থ:- আর তারা তোমাকে হায়েয সম্পর্কে প্রশ্ন করে। বল, তা কষ্ট। সুতরাং তোমরা হায়েযকালে স্ত্রীদের থেকে দূরে থাক এবং তারা পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত তাদের নিকটবর্তী হয়ো না। অতঃপর যখন তারা পবিত্র হবে তখন তাদের নিকট আস, যেভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন। নিশ্চয় আল্লাহ তাওবাকারীদেরকে ভালবাসেন এবং ভালবাসেন অধিক পবিত্রতা অর্জনকারীদেরকে। (( (2:222) Al-Baqara | (২:২২২) আল-বাকারা-অনুবাদ/তাফসীর ))
উপরের আয়াতটিতে “স্ত্রীদের থেকে দূরে থাক” এবং “তাদের নিকটবর্তী হয়ো না” অংশটুকু দিয়ে স্ত্রীদের সাথে যাতে ঐ মূহুর্তে সহবাস না করা হয় সেই বিষয়টিকে বুঝানো হয়েছে। এখানে শারিরীক সম্পর্কের জন্য ব্যবহৃত অশ্লীল শব্দগুলো দ্বারা আয়াতটির এই অংশগুলো উপস্থাপিত হয় নি। আবার “তাদের নিকট আস” অংশটি দ্বারা সহবাস বৈধতার দিকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।এখানেও শারিরীক সম্পর্কের জন্য অশ্লীল শব্দ ব্যবহৃত হয় নি। পবিত্র কুরআনের অন্যান্য জায়গাও শারিরীক সম্পর্কের বিষয়টি রুচি সম্মত ভাষা দিয়ে উপস্থাপিত হয়েছে। সুতরাং কুরআন মাজিদে রুচিসম্মত ভাষার ব্যবহার আমাদের এই সিদ্ধান্তে উপনীত করতে সাহায্য করে যে, সুরাহ নাবার ৩৩ নম্বর আয়াতে সরাসরি উঁচু স্তনের দিকে ইঙ্গিত করা হয় নি।বরং এর একটি রুচিসম্মত ব্যবহার রয়েছে। আপনারা যদি উপরে উল্লেখিত সুরাহ নাবার ৩৩ নম্বর আয়াতের দিকে দৃষ্টিপাত করেন তাহলে দেখতে পারবেন অধিকাংশ অনুবাদকারী উন্নতবক্ষা দিয়ে অনুবাদ করেন নি। পুরো বিষয়টি গভীরভাবে উপলব্ধি করার জন্য আপনাদেরকে এই আয়াত সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হবে। শুরুতে আমরা শাব্দিক অনুবাদের দিকে দৃষ্টিপাত করি,

وَّكَوَاعِبَ اَتْرَابًا ۙ

اَتْرَابًا كَوَاعِبَ وَّ
সমবয়স্কা যুবতীরা বা নব্য যুবতীরা এবং
এবার আপনাদেরকে আরেকটি বিষয় তথ্য দিয়ে রাখি,
বয়স বা শরিরবৃত্তীয় পরিবর্তন অনুযায়ী নারীদের বিভিন্ন নামকরণ আরবী
নারী যখন শিশু থাকে তখন সে নারীকে তিফলাহ বলা হয়। طِفْلَة
নারীর যখন স্তন আসা শুরু হয় অর্থ্যাৎ নব্য বালিকাকে কায়িব বলে كَاعِب
নারীর স্তন যখন পরিণত হয় বা বড় হয় তখন সে নারীকে নাহিদ বলে نَاهِد
নারী যখন পূর্ণাঙ্গ যুবতী হয় অর্থাৎ মধ্যবয়সী হওয়ার আগ মূহুর্তের নারীকে খাওদ বলা হয়। خَود
  উপরে উল্লেখিত كَاعِب (কায়িব) শব্দের বহুবচন كَوَاعِب (কাওয়ায়িব)।অর্থাৎ كَوَاعِب ঐ নারীদেরকে বুঝায় যাদের স্তন আসা শুরু হয়। অর্থাৎ নব্য যুবতীদের كَوَاعِب বলা হয়।শাব্দিকভাবে দেখলে এটি স্পষ্ট যে كَوَاعِب নব্য যুবতীদেরকে বুঝানো হয়। কিন্তু লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে কিছু মুফাসসিরগণ এখানে (كَاعِب) কায়িবকে নাহিদ (نَاهِد) অর্থে অনুবাদ করেছেন। এখন প্রশ্ন হতে পারে কেন তারা কায়িবকে নাহিদ অর্থে অনুবাদ করেছেন। এই সম্পর্কে জানার জন্য নিচের হাদিসগুলো লক্ষ্য করুন,

পরিচ্ছেদঃ ১২. জান্নাতীদের বয়সের বর্ণনা

২৫৪৫। মু’আয ইবনু জাবাল (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জান্নাতীরা জান্নাতে প্রবেশের সময় তাদের শরীরে লোম থাকবে না, দাঁড়ি-গোফও থাকবে না এবং চোখে সুরমা লাগানো থাকবে। তারা হবে ত্রিশ অথবা তেত্রিশ বছরের যুবক। (( সুনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত) | হাদিস: ২৫৪৫ | Sunan at-Tirmidhi, Hadith No. 2545 ))
উপরের হাদিসগুলোতে আমরা দেখতে পাচ্ছি জান্নাতীদের বয়স হবে ৩০ অথবা ৩৩।এই বয়সের নারীরা নব্য যুবতী হয় না। তাই তারা কায়িবকে নাহিদ অর্থে নিয়েছেন।কিন্তু এটা কি হতে পারে না তাদের বয়স চিন্তাভাবনা,ম্যাচুরিটি ৩০ অথবা ৩৩ হবে কিন্তু তাদের শরীরবৃত্তীয় গঠন নব্য যুবতীদের মত হবে। এরকমভাবে ব্যাখ্যা করলে কায়িব শব্দটি প্রকৃত অর্থে প্রকাশ পায়।মজার বিষয় হচ্ছে হাদিসটি শুধু বয়স উল্লেখ করছে কিন্তু সেই বয়সের নারীরা কি নাহিদ হবে নাকি খাওদ হবে সেটি উল্লেখ করে নি। মুফাসসিরগণ কায়িবকে নাহিদ অর্থে ধরে তারপর সেটিকে ব্যাখ্যা করেছেন। এবার আমরা اَتْرَابًا শব্দটি নিয়ে আলোচনা করি। এটিকে সমবয়স্কা দিয়ে অনুবাদ করা হয়েছে। এখন প্রশ্ন হতে পারে সমবয়স্কা দ্বারা কাদেরকে বুঝানো হয়েছে। একটি মত হচ্ছে জান্নাতী নারীরা ও দুনিয়ার স্ত্রীরা একে অপরের সমবয়স্কা হবে। আরেকটি মত হচ্ছে  দুনিয়ার নারীরাসহ জান্নাতী নারীরা জান্নাতী পুরুষদের সমবয়স্কা হবে। বাংলা তাফসীরে এই আয়াতের ক্ষেত্রে আপনারা দুই ধরনের মন্তব্য পাবেন, একটি হচ্ছে এখানে যে নারীদের কথা বলা হয়েছে তারা নব্য যুবতী হবে, আরেকটি হচ্ছে এখানে যে নারীদের কথা বলা হয়েছে তারা উঁচু স্তন বিশিষ্ট নারী হবে। ধরে নিলাম এখানে উঁচু স্তন বিশিষ্ট নারীদের কথা বলা হয়েছে। উঁচু স্তন বিশিষ্ট হুরদের বিবেচনা করে আমরা সুরাহ নাবার ৩১-৩৩ নম্বর আয়াতগুলোকে সংযোগ করার চেষ্টা করি। ৩১) নিশ্চয় মুত্তাকী নারী ও পুরুষদের জন্য রয়েছে সফলতা (জান্নাত)। ৩২) উদ্যানসমূহ,আঙুরসমূহ, এখানে ৩২ নম্বর আয়াতটি সম্পূর্ণ একটি বাক্য নয়।একটি কথা মনে রাখতে হবে আয়াত এবং বাক্য এক নয়। অনেক সময় একটি শব্দ দিয়ে একটি আয়াত হতে পারে।যেমন সুরাহ আর রহমানের ১ম আয়াতে লিখা আছে, ১) আর রহমান। আবার অনেক সময় একটি আয়াতে অনেকগুলো বাক্য থাকতে পারে। যেহেতু ৩২ নম্বর আয়াতটি সম্পূর্ণ একটি বাক্য নয় তাই এটিকে বুঝতে হলে ৩১ নম্বর আয়াতের সাথে সংযোগ করে বাক্য বানিয়ে বুঝতে হবে। ৩১+৩২) নিশ্চয়ই মুত্তাকী নারী ও পুরুষদের জন্য রয়েছে সফলতা (জান্নাত),উদ্যানসমূহ,আঙুরসমূহ। উপরের দুটি আয়াতের সংযোগ স্থাপন করার কারণে আমরা বুঝলাম মুত্তাকী নারী ও পুরুষ উভয়ই জান্নাত,উদ্যানসমূহ ও আঙুরসমূহের অধিকারী হবে। এবার আমরা ৩১,৩২ এবং ৩৩ নম্বর আয়াতটিকে সংযুক্ত করে অনুবাদ বুঝার চেষ্টা করি, ৩১) নিশ্চয় মুত্তাকী নারী ও পুরষদের জন্য রয়েছে সফলতা (জান্নাত)। ৩২) উদ্যানসমূহ,আঙুরসমূহ, ৩৩) ও সমবয়স্কা উন্নতবক্ষা তরুণী। উপরের ৩৩ নম্বর আয়াতটিও পূর্ণাঙ্গ একটি বাক্য নয়। এখানেও ৩৩ নম্বর আয়াতটি বুঝতে হলে উপরের আয়াতগুলোর সাথে সংযুক্ত করে বাক্য বানিয়ে বুঝতে হবে। এই তিনটি আয়াতের সংযুক্ত অনুবাদ হচ্ছে, ৩১+৩২+৩৩) নিশ্চয় মুত্তাকী নারী ও পুরষদের জন্য রয়েছে সফলতা (জান্নাত), উদ্যানসমূহ,আঙুরসমূহ ও সমবয়স্কা উন্নতবক্ষা তরুণী। উপরের ৩টি আয়াতের সংযোগ স্থাপন করার কারণে আমরা বুঝলাম মুত্তাকী নারী ও পুরুষ উভয়ই জান্নাত,উদ্যানসমূহ, আঙুরসমূহ ও সমবয়স্কা উন্নতবক্ষা তরুণীদের অধিকারী হবে। কিন্তু এটা কিভাবে সম্ভব? মুত্তাকী নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য কিভাবে উন্নতবক্ষা তরুণী বরাদ্দ থাকবে? মুত্তাকী নারীরা উন্নতবক্ষা তরুণীদের দিয়ে কি করবে? তারমানে আমরা বুঝলাম কন্টেক্স অনুযায়ী এভাবে অনুবাদ সঠিক নয়। বিষয়টিকে একটি উদাহরণ দিয়ে পরিষ্কার করি,যদিও এই উদাহরণের জন্য আমি দুঃক্ষ প্রকাশ করছি তবুও বুঝানোর জন্য এই দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করছি। ধরেন একজন প্রেসিডেন্ট যুদ্ধ ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষ সৈনিকদের লোভ দেখানোর জন্য বললো, হে নারী ও পুরুষ যোদ্ধা তোমরা যদি এই যুদ্ধে জয় কর,তাহলে তোমাদের জন্য হট,সেক্সি নারী উপহার দিব।এই কথাটি শুনলে নারীরা মোটেও সন্তুষ্ট হবে না।বরং অপমানবোধ করবে।তারা অপমানবোধ করবে কারণ তারা সমকামী নয়। এখানে নারীরা ভাববে এই প্রেসিডেন্ট দেখি আমাদেরকে উপহার দেওয়ার পরিবর্তে আমাদের সাথে মশকরা করছে।আর প্রেসিডেন্টের যদি নারী ও পুরুষ উভয়কেই উপহার দেওয়ার ইচ্ছা থাকে তাহলে সে কখনোই এভাবে কথা বলবে না। নাস্তিকদের ধারণা অনুযায়ী আল্লহ তা'আলা যদি মুত্তাকী নারী ও পুরুষদের জান্নাতের লোভ দেখান তাহলে তিনি কেন নারীদেরকে উদ্দেশ্য করে বলবেন মুত্তাকী নারীদের জন্য রয়েছে উন্নতবক্ষা তরুণী (নাউজুবিল্লাহ)। যদি তার উদ্দেশ্য হত উন্নতবক্ষা তরুণী দিয়ে মুত্তাকী ছেলেদের লোভ দেখানো তাহলে তো তিনি আগেই মুত্তাকী নারীদেরকে মুত্তাকী ছেলেদের থেকে আলাদা করে আয়াতটিকে উপস্থাপন করতেন। এবার আমরা ৩১,৩২ এবং ৩৩ নম্বর আয়াতটিকে প্রকৃত অর্থ ধরে অনুবাদ করি, ৩১) নিশ্চয়ই মুত্তাকী পুরুষ ও নারীদের জন্য রয়েছে সফলতা (জান্নাত), ৩২) উদ্যানসমূহ,আঙুরসমূহ, ৩৩) ও সমবয়স্কা নব্য যুবতীরা বা যুবতীরা। উপরের তিনটি আয়াতকে সংযুক্ত করে অনুবাদ করি, ৩১+৩২+৩৩) নিশ্চয় মুত্তাকী নারী ও পুরষদের জন্য রয়েছে সফলতা (জান্নাত), উদ্যানসমূহ,আঙুরসমূহ ও সমবয়স্কা নব্য যুবতীরা বা যুবতীরা। এখন প্রশ্ন হতে পারে মুত্তাকী নারীরা এই সমবয়স্কা যুবতীদের দিয়ে কি করবে? এখানে اَتْرَابًا যার বাংলা অর্থ হচ্ছে সমবয়স্কা,এই শব্দটি সম্পর্কে আরো কিছু ধারণা দেই।এই শব্দটি দ্বারা সাথী,সহযোগী, সহকর্মী বুঝায়। এই অর্থগুলো ডিকশেনারীতেই পাওয়া যায়। lane lexicon dictionary পৃষ্ঠা নম্বর ৩০০ দ্রষ্টব্য। জান্নাতী রমণীরা মুত্তাকী স্ত্রীদের খাদেম হবে। এমনকি اَتْرَابًا শব্দটির একটি অর্থ হচ্ছে বন্ধু। জান্নাতী রমণীরা মুত্তাকী স্ত্রীদের বন্ধু হবে। জান্নাতী নারীদের সঙ্গ মুত্তাকী নারীদের একাকিত্ব দূর করবে। কুরআন মাজিদে লিখা আছে, আর তাদের অন্তরে যা কিছু ঈর্ষা ও বিদ্বেষ রয়েছে (জান্নাতের মধ্যে) তা আমি দূর করে দিব (সুরাহ আল আ'রাফ ৪৩ অংশবিশেষ) তাদের অন্তর থেকে আমি বিদ্বেষ দূরীভূত করব, তারা ভ্রাতৃবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে আসনে মুখোমুখী সমাসীন হবে। (সুরাহ আল হিজর আয়াত ৪৭) সুতরাং আমরা দেখতে পাচ্ছি মুত্তাকী স্ত্রীদের সাথে জান্নাতী রমণীদের ঝগড়া,বিবাদতো দূরের কথা বরং তারা একে অন্যের সাথী হয়ে সহবস্থান করবে। জান্নাতী রমণীদের এই বন্ধুভাবাপন্ন আচরণ মুত্তাকী জান্নাতী রমণীদের সন্তুষ্ট করবে। আর সেজন্যই জান্নাতী রমনীদের এই বন্ধুভাবাপন্ন মনোভাবের বিষয়টি দুনিয়ার মুত্তাকী নারীদেরকে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। হয়তোবা অনেক মুত্তাকী নারীরা ভাবতে পারেন আমার স্বামী জান্নাতে অন্যান্য রমণীদের সঙ্গী হবে বিষয়টি আমার জন্য কেমন হবে? তাই মুত্তাকী রমণীদেরকেও জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে, জান্নাতী রমণীদের দেখে তোমরা দুনিয়ার মত ঈর্ষা অনুভব করবে না বরং তাদের সাথে তোমাদের বন্ধুত্ব তোমাদেরকে আনন্দ দিবে। সুতরাং আয়াতটিকে আমাদেরকে এমনভাবে অনুবাদ করতে হবে যেন তা মুত্তাকী নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য উপযুক্ত হয়।যদি উন্নতবক্ষা দিয়ে অনুবাদ করা হয় তাহলে সেটি মুত্তাকী নারীদের সাথে প্রাসঙ্গিক হয় না। কা'য়িব শব্দটি দ্বারা কি আসলেই ছোট স্তন এবং নাহিদ শব্দটি দ্বারা কি বড় স্তন বুঝায়? বাক্যে যখন কোন শব্দ ব্যবহার করা হয় তখন তার একটি প্রায়োগিক অর্থ থাকে।যেমন ধরেণ একজন চিকিৎসক রুগীকে জিজ্ঞেস করলো আপনি কি প্রাপ্তবয়স্ক বা বালেগ কিনা? হয়তোবা তিনি এই প্রশ্ন করেছেন আপনি যদি বালেগ বা প্রাপ্তবয়স্ক হোন তাহলে আপনাকে ঔষধের ডোজ বাড়িয়ে দিবেন।এখন যদি রুগী মনে মনে ভাবতে শুরু করে আমাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছে আমি বালেগ কিনা ?আর বালেগ মানে হচ্ছে লজ্জাস্থানে লোম গজানো,মাসিক হওয়া,স্বপ্নদোষ হওয়া অথবা যৌবনে পদার্পন করা ইত্যাদি। ডাক্তার যেহেতু আমাকে এই অশ্লীল প্রশ্ন জিজ্ঞেস করেছে সুতরাং তার চরিত্র খারাপ।এরকম ভাবাটা সম্পূর্ণ ভুল। এখানে চিকিৎসকের ব্যবহৃত বালেগ শব্দটির প্রায়োগিক অর্থ অশ্লীল নয়। আবার আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বিয়ে সাদির ব্যাপারে অনেক আলোচনা হয়। বাবা মা অনেক সময় ছেলে মেয়েদেরকে বিয়ের জন্য প্রস্তাব দেয়।এখানে কি কেউ বলবে বাবা-মা, ছেলে বা মেয়েদেরকে অশ্লীল কাজকর্ম করার জন্য উদ্ভুদ্ধ করছে? না এটা বলা হবে না।অথচ নিকাহ শব্দের সাথে শারিরীক সম্পর্কের বিষয়টি জড়িত আছে।কোন বাবা অথবা মা যদি ছেলে মেয়েদেরকে নিকাহ বা বিয়ে করার জন্য উদ্ভুদ্ধ করে তাহলে সেই শব্দটিকে গভীরে গিয়ে বিশ্লেষণ করাটা সমুচীন নয়।এখানেও নিকাহ শব্দের প্রায়োগিক অর্থ অশ্লীল হবে না। বিভিন্ন বয়সী নারীদেরকে বুঝানোর জন্য আরবীতে তিফলাহ,কায়িব,নাহিদ,খাওদ ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করা হয়। যেমন বাংলা ভাষাতেও বিভিন্ন বয়সী মেয়েদের বুঝানোর জন্য শিশু,কিশোর, যুবতী, বৃদ্ধা ইত্যাদি শব্দের ব্যবহার রয়েছে। কোন লেখক যদি তার গল্পে যুবতী শব্দটি ব্যবহার করে তাহলে সেক্ষেত্রেও লেখক অশ্লীল শব্দ ব্যবহার করেছেন বলে কুতর্ক করা যায়।যেমন কেউ যদি যুবতী শব্দটিকে আরেকটু গভীরে গিয়ে বিশ্লেষণ করে অর্থ নেয় যে এর অর্থ মাসিক হওয়া,লজ্জাস্থানে লোম গজানো,মানুষিক ও শারিরীকভাবে পরিবর্তন হওয়া ইত্যাদি।এবং কেউ যদি দাবী করে এখানে অশ্লীল শব্দের ব্যবহার হয়েছে তাহলে প্রায়োগিক অর্থে তার ধারণা অনেকক্ষেত্রে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। বিষয়টিকে আরেকটু সহজ করে বলি, বিয়ে,বালেগ, যুবক,যুবতী,স্বামী,স্ত্রী শব্দগুলো প্রচলিত শব্দ। এগুলো অশ্লীল শব্দ নয়।এর গভীরে গিয়ে অশ্লীলতা অন্বেষণ করা বোকামি।এদের প্রায়োগিক অর্থ অশ্লীল নয়। ঠিক তেমনিভাবে কায়িব,নাহিদ,খাওদ এগুলোর প্রায়োগিক অর্থ অশ্লীল নয়।

Leave a Comment