ফিলিস্তিনের ইতিহাস, জেরুজালেমের মালিক কারা?
ফিলিস্তিন ও জেরুজালেমকে কেন্দ্র করে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম বিতর্কিত প্রশ্ন হলো—জেরুজালেম কি ইহুদিদের চিরস্থায়ী সম্পত্তি? অনেক অমুসলিম, বিশেষ করে কিছু খ্রিস্টান মিশনারি ও ইসরায়েলপন্থী গোষ্ঠী, পবিত্র কুরআনের একটি আয়াতকে দলিল হিসেবে ব্যবহার করে দাবি করেন যে, আল্লাহ নিজেই ইহুদিদের জেরুজালেম দিয়েছেন। তাই জেরুজালেমের প্রকৃত মালিক ইহুদিরাই।
তারা সাধারণত এই আয়াতটি উদ্ধৃত করেন:
হে আমার সম্প্রদায়! তোমাদের জন্য যে পবিত্র ভূমি আল্লাহ নির্দিষ্ট করেছেন তাতে প্রবেশ কর আর পশ্চাতে ঘুরে দাঁড়িও না, তা করলে ধ্বংসে পতিত হবে। (( সূরা আল-মায়েদা (Al-Ma'ida) আয়াত ২১ - বাংলা অনুবাদ, তাফসীর ও তাজউইদ ))
কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই ভূমি কি নিঃশর্তভাবে দেওয়া হয়েছিল, নাকি নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে দেওয়া হয়েছিল?
জেরুজালেম কোথায়?
জেরুজালেম মধ্যপ্রাচ্যের একটি ঐতিহাসিক নগরী, যা ভূমধ্যসাগর ও মৃত সাগরের মধ্যবর্তী যিহূদিয়া পর্বতমালার মালভূমিতে অবস্থিত।
এটি তিনটি আব্রাহামীয় ধর্মের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- মুসলিমদের কাছে: মসজিদুল আকসা ও মিরাজের ঘটনার জন্য
- খ্রিস্টানদের কাছে: হযরত ঈসা (আ.)-এর জীবনের বিভিন্ন ঘটনার জন্য
- ইহুদিদের কাছে: টেম্পল মাউন্টের জন্য
আল্লাহ কি বনী ইসরাইলকে পবিত্র ভূমি দিয়েছিলেন?
হ্যাঁ, এতে কোনো সন্দেহ নেই। ইসলামী ইতিহাস ও হিব্রু বাইবেলের বর্ণনা অনুযায়ী, আল্লাহ তাআলা হযরত ইবরাহিম (আ.)-এর বংশধরদের জন্য পবিত্র ভূমির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। অর্থাৎ তার বংশধররা এই ভূমির মালিক হবে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এই প্রতিশ্রুতি ছিল শর্তসাপেক্ষ।
আল্লাহ তা'আলা পবিত্র কুরআনে বলেন,
হে আমার সম্প্রদায়! তোমাদের জন্য যে পবিত্র ভূমি আল্লাহ নির্দিষ্ট করেছেন তাতে প্রবেশ কর আর পশ্চাতে ঘুরে দাঁড়িও না, তা করলে ধ্বংসে পতিত হবে। (( সূরা আল-মায়েদা (Al-Ma'ida) আয়াত ২১ - বাংলা অনুবাদ, তাফসীর ও তাজউইদ ))
বাইবেলে বলা হয়েছে,
কনান দেশের জমি অনুসন্ধানের জন্য কিছু লোক পাঠিয়ে দাও| ইস্রায়েলের লোকদের আমি এই দেশটিই দেবো| বারোটি পরিবারগোষ্ঠীর প্রত্যেকটির থেকে একজন করে নেতা পাঠিয়ে দাও। (( গণনা পুস্তক / Numbers 13: বাংলা বাইবেল - Bengali Bible - পুরানো ইচ্ছাপত্র - Old Testament ))
কিন্তু অমুসলিম ও খ্রিস্টান মিশনারিরা একটা জিনিস এড়িয়ে যাই তা হচ্ছে “ভূমি শর্ত সাপেক্ষে দেওয়া হয়েছে।" তারা কৌশলে শর্তের বিষয় এড়িয়ে যায়। অর্থাৎ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তালা ইহুদি জাতিকে ভূমি দিয়েছে সাথে ভূমিতে থাকার জন্য কিছু শর্ত দিয়েছে। ইহুদি জাতি সেই শর্ত মোতাবেক চলতে ব্যার্থ হয়েছে তাই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তালা ইহুদিদের সেই ভূমি থেকে বের করে দিয়েছে। কি সেই শর্ত ?
পবিত্র ভূমির মালিকানার শর্ত কী ছিল?
আল্লাহ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, পৃথিবীর উত্তরাধিকারী হবে সৎকর্মপরায়ণ বান্দারা।
(এর আগে মূসাকে) বাণী দেয়ার পর আমি যুবূরে লিখে দিয়েছিলাম যে, আমার সৎকর্মপরায়ণ বান্দাহ্গণই পৃথিবীর উত্তরাধিকার লাভ করবে। (( সূরা আল-আম্বিয়া (Al-Anbiya) আয়াত ১০৫ - বাংলা অনুবাদ, তাফসীর ও তাজউইদ ))
বাইবেলে বলা হয়েছে,
কিন্তু নম্র ভদ্র লোকেরা দেশের দখল পাবে, প্রচুর দোয়া পেয়ে তারা আনন্দে মাতবে। (( যাবুর-৩৭ঃ১১ ))
আল্লাহ ভক্ত লোকেরা দেশের দখল পাবে, আর সেখানে চিরকাল বাস করবে। (( যাবুর-৩৭ঃ২৯ ))
কে সেই লোক যে মাবুদ কে ভয় করে? কোন পথ তাকে বেচে নিতে হবে তা তিনি দেখিয়ে দিবেন। সে উন্নতির মধ্যে তার জীবন কাটবে, আর তার বংশধরেরা দেশের অধিকার পাবে। (( যাবুর-২৫ঃ১২-১৩ ))
আজ তোমাদের যে সকল আদেশ করছি, তোমরা যদি প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরের, সেই সব আজ্ঞা যত্নের সাথে পালন করো তবে প্রভু তোমার ঈশ্বর পৃথিবীর সমস্ত জাতির উপর তোমাদের উন্নত করবেন। যদি তোমরা প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরের, বাধ্য হও তবে এইসব আশীর্বাদ তোমাদের উপরে আসবে। (( দ্বিতীয় বিবরণ; ২৮ঃ১-২ ))
কিন্তু প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরের, কথা না শুনো , তিনি যা আদেশ করেছেন আমার আজকের বলা সেই সব আদেশ যত্ন সহকারে পালন না করো তবে এই সমস্ত অভিশাপ তোমাদের উপর বর্তাবে। (( দ্বিতীয় বিবরণ; ২৮ঃ১৫ ))
কুরআন ও যাবুরে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তালা ইহুদিদের পবিত্র ভূমি বা জেরুজালেমে থাকার জন্য বেশ কিছু শর্ত আরোপ করেছে। অর্থাৎ, ভূমির মালিকানা কোনো জাতিগত বিশেষাধিকার ছিল না; বরং তা ছিল আনুগত্য, তাকওয়া ও ন্যায়পরায়ণতার ওপর নির্ভরশীল। এই ভূমিতে থাকতে হলে তাদেরকে নম্র ভদ্র হতে হবে, তাদেরকে আল্লাহ ভক্ত হতে হবে, প্রভুর আদেশ মান্য করতে হবে, সৎকর্মপরায়ণ হতে হবে। এবং তারা যদি এই শর্ত অমান্য করে তাহলে তাদেরকে অভিশাপ দেওয়া হবে। তাদের কে এই ভূমি থেকে বিতাড়িত করা হবে। তাদের উপর কঠিন আজাব দেওয়া হবে।
বনী ইসরাইল কি সেই শর্তগুলো পালন করতে পেরেছিল?
কুরআনের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা বারবার আল্লাহর অবাধ্য হয়েছিল। তারা
- অহংকারে লিপ্ত হয়েছিল,
- আল্লাহর কিতাব বিকৃত করেছিল,
- বহু নবীকে হত্যা করেছিল,
- আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করেছিল।
ফলে তারা তাদের বিশেষ মর্যাদা হারিয়ে ফেলে।
আল্লাহ তা'আলা বলেন,
আমি কিতাবের মাধ্যমে বানী ইসরাঈলকে জানিয়ে দিয়েছিলাম যে, তোমরা অবশ্য অবশ্যই পৃথিবীর বুকে দু’ দু’বার বিপর্যয় সৃষ্টি করবে আর অবশ্য অবশ্যই অত্যধিক গর্বে ফুলে উঠবে। (( সূরা আল-ইসরা (বনী-ইসরাঈল) (Al-Isra (Bani-Israil)) আয়াত ৪ - বাংলা অনুবাদ, তাফসীর ও তাজউইদ ))
অতঃপর যখন দু’টির মধ্যে প্রথমটির সময় এসে উপস্থিত হল, তখন আমি তোমাদের বিরুদ্ধে পাঠিয়ে দিলাম আমার বান্দাদেরকে যারা ছিল যুদ্ধে অতি শক্তিশালী, তারা (তোমাদের) ঘরের কোণায় কোণায় ঢুকে পড়ল, আর সতর্কবাণী পূর্ণ হল। (( সূরা আল-ইসরা (বনী-ইসরাঈল) (Al-Isra (Bani-Israil)) আয়াত ৫ - বাংলা অনুবাদ, তাফসীর ও তাজউইদ ))
আল্লাহর দেওয়া শর্ত অমান্য করার কারণে, আল্লহ সুবহানাহু ওয়া তালা তাদের পবিত্র ভূমি থেকে বিতাড়িত করেছেন। তাদের অভিশাপ দিয়েছে।
একই বর্ণণা পাওয়া যায় বাইবেল থেকেও। বাইবেলের বর্ণনা অনুযায়ী,
প্রভু তোমাদের শত্রুদের দিয়ে তোমাদের হারাবেন| তোমরা এক পথ দিয়ে তোমাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে যাবে কিন্তু সাত পথ দিয়ে তাদের সামনে থেকে পালাবে| তোমাদের প্রতি যে সব খারাপ বিষয় ঘটবে তা দেখে পৃথিবীর লোক ভয় পাবে। (( দ্বিতীয় বিবরণ-২৮ঃ২৫ ))
প্রভু মিশরীয়দের কাছে যেমন ফোড়া পাঠিয়েছিলেন সেই রকমটি দিয়েই তোমাদের শাস্তি দেবেন। তিনি আর, গলিত ঘা এবং সারে না এমন চুলকানি দিয়ে তোমাদের শাস্তি দেবেন। প্রভু উন্মাদনা দ্বারা তোমাদের শাস্তি দেবেন। তিনি তোমাদের অন্ধ এবং হতবুদ্ধি করবেন। (( দ্বিতীয় বিবরণ- ২৮ঃ২৮ ))
তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য প্রভু বহুদূর থেকে এক জাতির আগমন ঘটাবেন| তোমরা তাদের ভাষা বুঝবে না| ঈগল পাখি যেমন আকাশ থেকে নেমে আসে তেমনি দ্রুত তারা আসবে। (( দ্বিতীয় বিবরণ- ২৮ঃ৪৯ ))
আল্লাহ্ তায়ালা বনী ইসরাইলিদেরকে সতর্ক করেছিলেন তাদের দুইবার ফ্যাসাদ সৃষ্টির বিষয়ে এবং দুইবারই তাদেরকে চরম শাস্তি দিয়ে আল্লাহ্ তাঁর কথা রাখেন।
প্রথম শাস্তি: ব্যাবিলনীয়দের হাতে জেরুজালেমের পতন
ইতিহাস অনুযায়ী, হযরত সুলাইমান (আ.)-এর পর বনী ইসরাইলের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অবক্ষয় শুরু হয়।
অবশেষে খ্রিস্টপূর্ব ৫৮৬/৫৮৭ সালে ব্যাবিলনের রাজা নেবুখাদনেজার (Nebuchadnezzar) জেরুজালেম আক্রমণ করেন। তিনি
- জেরুজালেম ধ্বংস করেন,
- প্রথম মন্দির ধ্বংস করেন,
- বহু মানুষকে হত্যা করেন,
- অসংখ্য ইহুদিকে বন্দী করে ব্যাবিলনে নিয়ে যান।
এটি ছিল তাদের প্রথম বড় শাস্তি।
দ্বিতীয় সুযোগ ও হযরত ঈসা (আ.)-এর আগমন
পরবর্তীতে পারস্য সম্রাট সাইরাস (Cyrus) বনী ইসরাইলকে পুনরায় জেরুজালেমে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেন।তাদের কাছে ভবিষ্যদ্বাণী ছিল যে, একজন মহান নবী বা মসীহ আসবেন। বাইবেলে বলা হয়েছে,
ইশ্বর তাদের কাছে এমন একজন নবি পাঠাবেন যিনি দাউদ (আঃ) এর সিংহাসনে বসে পুরো পৃথিবীকে শাসন করবে। (( বুক অব আইজাইয়া, অরধ্যায় ৯-আয়াত ৬-৭ ))
ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, তিনি ছিলেন হযরত ঈসা (আ.)। কিন্তু অধিকাংশ ইহুদি তাঁকে প্রত্যাখ্যান করে এবং তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে।
কুরআন বলছে,
আর ‘আমরা আল্লাহর রসূল মাসীহ ঈসা ইবনু মারইয়ামকে হত্যা করেছি’ তাদের এ উক্তির জন্য। কিন্তু তারা না তাকে হত্যা করেছে, না তাকে ক্রুশবিদ্ধ করেছে, কেবলমাত্র তাদের জন্য (এক লোককে) তার সদৃশ করা হয়েছিল, আর যারা এ বিষয়ে মতভেদ করেছিল তারাও এ সম্পর্কে সন্দেহে পতিত হয়েছিল। শুধু অমূলক ধারণার অনুসরণ ছাড়া এ ব্যাপারে তাদের কোন জ্ঞানই ছিল না। এটা নিশ্চিত সত্য যে, তারা তাকে হত্যা করেনি। (( সূরা আন-নিসা (An-Nisa) আয়াত ১৫৭ - বাংলা অনুবাদ, তাফসীর ও তাজউইদ ))
তবে যখন তাদের এই ঐশ্বরিক অঙ্গীকার সম্পর্কে অভহিত করা হয় তখন তারা ছিল ব্যাবলিনে ক্রিতদাস হিসেবে। কিছুদিন পর পবিত্র ভূমি স্বাধীন করা হয় । রাজা সাইরাস ব্যাবলিয়ানদের সাথে যুদ্ধ করে বনি ইস্রাইলদের মুক্ত করে পবিত্র ভূমিতে যাওয়ার অনুমতি দেয়। ইহুদিরা অপেক্ষা করতে থাকে যে মাসিহ বা ঈসা (আঃ) কখন আসবেন। কিন্তু যখন মসীহ বা ঈসা (আঃ) আসলেন তখন খুব অল্প সংখ্যক ইহুদি তার উপর ইমান এনেছিল। যখন যীশু ইহুদী ইমামদের (র্যাবাইদের) দুর্নীতি নিয়ে কথা বলতে লাগলেন তখন ইহদিরা চক্রান্ত করল যেন রোমান শাসককে বুঝিয়ে যীশুকে ক্রুশে দিয়ে মেরে ফেলা যায়, এবং তাই তারা করে। ইহুদীদের মতে তারা যীশুকে ক্রুশে দিয়ে মেরে ফেলে। যদিও ইসলাম ধর্ম মতে, আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তালা হযরত ঈসা (আঃ)-কে অক্ষত রাখেন এবং তুলে নেন, যিনি শেষ সময়ে আবার ফিরে আসবেন। ঈসা (আঃ) কে ক্রুশবিদ্ধ করার পর যখন ইহুদিরা গর্ব করলো এবং তাঁকে হত্যার ক্রেডিট নিয়ে উল্লাসে ফেটে পড়লো তখন আবার তাদেরকে শাস্তির মুখোমুখি করা হয়।
দ্বিতীয় শাস্তি: রোমানদের হাতে জেরুজালেম ধ্বংস
খ্রিস্টাব্দ ৭০ সালে রোমান সেনাপতি টাইটাস (Titus) জেরুজালেম অবরোধ করেন। এরপর
- শহর ধ্বংস করা হয়,
- দ্বিতীয় মন্দির ধ্বংস করা হয়,
- বহু মানুষ নিহত হয়,
- অবশিষ্ট ইহুদিদের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
কুরআনেও বলা হয়েছে,
পৃথিবীতে আমি তাদেরকে নানা দলে বিভক্ত করে দিয়েছিলাম, তাদের মধ্যে কিছু দল ছিল সৎ, কতক দল অন্য রকম এবং সুখ আর দুখ দিয়ে তাদেরকে পরীক্ষা করেছিলাম যাতে তারা (আল্লাহর নির্দেশের পথে) ফিরে আসে। (( সূরা আল-আ'রাফ (Al-A'raf) আয়াত ১৬৮ - বাংলা অনুবাদ, তাফসীর ও তাজউইদ ))
সেনাপতি টাইটাসের (Titus) এর নেতৃত্বে রোমান বাহিনী ৭০ খ্রিস্টাব্দে জেরুজালেম অবরোধ করে। টাইটাস জেরুজালেম শহর ধ্বংস করে দেয়, এর বাসিন্দাদের হত্যা করে ও পবিত্রভূমি থেকে অবশিষ্ট ইহুদিদের বহিষ্কার করে। পবিত্র মসজিদ আল আক্সা আবার ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় এবং রোমান সৈন্যরা সেটাকে ভেঙ্গে টুকরো টুকরো করে, গলিত স্বর্ণ পিন্ডের খোঁজে প্রতিটি পাথরকে এক এক করে আলগা করা হয়, ঠিক যেমনটি ঈসা (আ) সতর্কবাণী দিয়েছিলেন।
দ্বিতীয়বার শাস্তি পাওয়ার পর অর্থাৎ ৭০ খ্রিস্টাব্দে বনী ইসরাইলের উপর জেরুজালেম শহর হারাম হয়ে যায় এবং তারা সারা বিশ্বে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।
আর আমি তাদেরকে (অর্থাৎ ইহুদিদের) বিভক্ত করে দিয়েছি দেশময় বিভিন্ন শ্রেণীতে। (( সূরা আল-আ'রাফ (Al-A'raf) আয়াত ১৬৮ - বাংলা অনুবাদ, তাফসীর ও তাজউইদ ))
যে সব জনপদকে আমি ধ্বংস করেছি তার অধিবাসীদের ফিরে না আসা অবধারিত – যে পর্যন্ত না ইয়াজুজ ও মা’জুজকে বন্ধনমুক্ত করে দেয়া হবে এবং তারা প্রত্যক উঁচু ভূমি থেকে দ্রুত ছুটে আসবে। (( সুরা আম্বিয়া আয়াত ২১ ))
তাহলে জেরুজালেমের মালিক কে?
ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে, জেরুজালেম কোনো নির্দিষ্ট জাতির চিরস্থায়ী সম্পত্তি নয়। কুরআনের নীতি হলো আল্লাহ পৃথিবীর উত্তরাধিকার সেইসব মানুষকে দেন, যারা ঈমানদার, ন্যায়পরায়ণ ও সৎকর্মশীল। অতএব, শুধুমাত্র “আল্লাহ একসময় বনী ইসরাইলকে এই ভূমি দিয়েছিলেন”—এই বক্তব্য দিয়ে বর্তমান রাজনৈতিক মালিকানার বৈধতা প্রমাণ করা যায় না। কারণ সেই দান ছিল শর্তসাপেক্ষ, নিঃশর্ত নয়।
যারা আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করে, আল্লাহর কিতাব অমান্য করে, নবী, রাসুলদের হত্যা করে , কিতাব বিকৃতি করে তারা কি সৎকর্মপরায়ণ ? তারা কি আল্লাহ ভিরু ? তারা কি নম্র ভদ্র ? অবশ্যই তারা সৎকর্মপরায়ণ নয়! আল্লাহ ভিরু নয় ! নম্র ভদ্র নয় ! আল্লাহ তাদের এই ভূমি দিয়েছে শর্ত সাপেক্ষ্যে। তারা সেই শর্ত মেনে চলতে পারেনি ,তাই তাদের সেই ভূমি থেকে আল্লাহ বিতাড়িত করেছেন এবং তাদের জন্য সেই ভূমি নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
তারা যখন আল্লাহর দেওয়া সেই শর্ত ভঙ্গ করেছিল, তখন তাদের ওপর শাস্তি নেমে আসে এবং তাদের বিশেষ মর্যাদা বাতিল হয়ে যায়। এতএব, জেরুজালেমের মালিক কে? এই প্রশ্নের উত্তর একটাই আর তা হলো, জেরুজালেম মুসলিমদের।