ইসলাম ও শিশু বিবাহ; ইসলাম কী অপ্রাপ্ত বয়স্ক কন্যা শিশুদের বিয়ে করে যৌন সঙ্গমকে হালাল করেছে?
শতাব্দী পর শতাব্দী ধরে পরিকল্পিতভাবে সময়, মেধা, শ্রম ও অর্থ সব কিছুই বিনিয়োগ করা হয়েছে ইসলামের বিরুদ্ধে; যেন ইসলামকে নির্মূল করাই পশ্চিমা সভ্যতার একটি অবিচ্ছেদ্য লক্ষ্য। এই লড়াই শুধু সামরিক ময়দানে নয়, কথা, লেখা ও ভাবনার মাধ্যমেও ইসলামকে আক্রমণ করা হয়েছে। বিশেষ করে নারী অধিকার নিয়ে পশ্চিমা বানানো আইন ও আল্লাহর দেওয়া আইনের মধ্যে তুলনা করে কৃত্রিমভাবে ইসলামকে পশ্চিমা আইডিওলজি’র মানদণ্ডে খাটো করে প্রদর্শন করার চেষ্টা বহুবার দেখা গিয়েছে। এই লক্ষ্য হাসিলের জন্য তারা যে কোনো কুপথ অবলম্বন করতে দ্বিধা করে না; নানাবিধ মিথ্যের আশ্রয় নিয়েছে আক্রমণকারীরা। এরই একটি সহিংস ও মিথ্যাচ্ছন্ন দাবি হলো, ইসলামে বাল্য বিবাহ বা ইসলামে শিশু বিবাহ। ইসলাম নাকি অপ্রাপ্তবয়স্ক নারীকে বিয়ে করে তাদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ককে বৈধ (হালাল) ঘোষণা করে। এই লেখায় আমরা সেই অভিযোগের মূল উৎপাটন করে এর পেছনের সত্য উদঘাটন করব, ইনশা আল্লাহ।বিবাহযোগ্য বয়স কিভাবে নির্ধারণ করা হয়?
সাধারণত বয়ঃসন্ধিক (Puberty) বৈশিষ্টসমূহকে বিয়ের বয়সের চিহ্ন হিসেবে গণ্য করা হয়। মেয়েদের জন্য এই বৈশিষ্ট ছিল ঋতুস্রাব বা মাসিকের সূচনা এবং ছেলেদের জন্য বয়ঃসন্ধিক চুল বা যৌনকেশ। অস্ট্রেলিয়ান সরকারের স্বাস্থ্য ও বয়স্ক পরিচর্যা বিভাগ এর তথ্য অনুযায়ী,বয়ঃসন্ধি বলতে বুঝানো হয়, যখন আপনি শৈশব থেকে যৌবনে যেতে শুরু করেন। বয়ঃসন্ধির সময়, আপনার শরীর হরমোন তৈরি করে যা শারীরিক এবং মানসিক পরিবর্তন ঘটায়। প্রজনন সিস্টেম এবং অন্যান্য শরীরের সিস্টেম পরিপক্ক হয়, এবং শরীরের বিকাশ হয় যার ফলে শারীরিকভাবে একটি শিশুর জন্ম দিতে সক্ষমতা অর্জন করে। মহিলাদের বয়ঃসন্ধিকাল সাধারণত ৮ থেকে ১৫ বছর বয়সের মধ্যে শুরু হয়। এটি কয়েক বছর ধরে চলতে পারে। বয়ঃসন্ধি বিভিন্ন মানুষের জন্য বিভিন্ন সময়ে ঘটে। এই পরিবর্তনগুলি কিছু লোকের জন্য দ্রুত এবং অন্যদের জন্য ধীরে ধীরে ঘটতে পারে। আপনার শরীরের জন্য সঠিক সময়ে আপনার বয়ঃসন্ধি শুরু হবে। এটি আপনার বন্ধু বা আপনার পরিবারের অন্যান্য মহিলাদের থেকে আলাদা হতে পারে। (( Puberty for girls - physical and emotional changes | healthdirect )) নারীর Puberty বা মাসিকের সময় জেনেটিক এবং পরিবেশগত কারণ, বিশেষ করে পুষ্টির কারণ দ্বারা প্রভাবিত হয়। (( Determinants of menarche - PMC (nih.gov) )) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেলথ (এনআইএইচ)গুলির মধ্যে একটি Eunice Kennedy Shriver National Institute of Child Health and Human Development (NICHD), এর দেওয়া তথ্য মতে, বয়ঃসন্ধির সূচনা, এটা জীবনেরর সময় যখন একজন ব্যক্তি যৌনভাবে পরিপক্ক হয়, সাধারণত মেয়েদের ক্ষেত্রে ৮ থেকে ১৩ বছর বয়সে এবং ছেলেদের জন্য ৯ থেকে ১৪ বছর বয়সের মধ্যে ঘটে। অকাল বয়ঃসন্ধি হল বয়ঃসন্ধি যা অস্বাভাবিকভাবে তাড়াতাড়ি শুরু হয় এবং বিলম্বিত বয়ঃসন্ধি হল বয়ঃসন্ধি যা অস্বাভাবিকভাবে দেরিতে শুরু হয়। (( Puberty and Precocious Puberty | NICHD - Eunice Kennedy Shriver National Institute of Child Health and Human Development (nih.gov) )) Mayoclinic এর দেওয়া তথ্য মতে, অকাল বয়ঃসন্ধি হল যখন শিশুদের শরীর খুব তাড়াতাড়ি প্রাপ্তবয়স্কদের দেহে পরিবর্তিত হতে শুরু করে। এই পরিবর্তন বয়ঃসন্ধি নামে পরিচিত। বেশিরভাগ সময়, বয়ঃসন্ধি ঘটে মেয়েদের ৮ বছর বয়সের পরে এবং ছেলেদের মধ্যে ৯ বছর বয়সের পরে। (( Precocious puberty - Symptoms and causes - Mayo Clinic )) সাধারণত মেয়েদের বয়ঃসন্ধিকাল ৮-৯ বছর থেকে শুরু হলেও, অনেক সময় ৬ বছর বয়সেও মেয়েদের বয়ঃসন্ধিকাল শুরু হতে পারে। (( Puberty: Stages & Signs for Boys & Girls - familydoctor.org )) আমেরিকান জাতীয় স্বাস্থ্য পরিসংখ্যান প্রতিবেদন এর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী মাসিকের গড় বয়স নির্ভুলভাবে অনুমান করা খুবই কঠিন, এবং এটি ভৌগলিক অঞ্চল, জাতি, জাতি এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয় এবং এটি বেশিরভাগ সময় 8 থেকে 16 বছর বয়সের মধ্যে ঘটে। পশ্চিমে ৯-১৪ বছর বয়সের মধ্যে মাসিক হওয়া স্বাভাবিক বলে মনে করা হয়। (( US National Health Statistics Report )) উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে আমরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারি যে, কোনো মেয়ের যদি পিরিয়ড হয় বা বয়ঃসন্ধি কালে পৌঁছে যায় তখন সে সন্তান গর্ভধারনের জন্য সক্ষম হয়। আর স্থান-কাল-পাত্র বেদে পৃথিবীর একেক দেশে একেক সময়ে মেয়দের বয়ঃসন্ধীকাল শুরু হয়। তাই বিয়ের ক্ষেত্রে মেয়েদের বয়স মূলত নির্ধারিত হয় তার শারিরীক সক্ষমতার উপরে। যদি কোনো মেয়ে ৯ বছর বয়সেই শারিরীকভাবে সক্ষমতা অর্জন করে তবে তার জন্য ৯ বছর বয়সই বিবাহের জন্য উপযুক্ত সময়। আবার কোনো মেয়ে যদি ২৫ বছর বয়সেও শারিরীক সক্ষমতা অর্জন না করে তবে ২৫ বছর বয়সেও সে বিবাহের জন্য উপযুক্ত বলে গণ্য হবে না।পৃথিবীর সকল দেশেই কি একটি নির্দিষ্ট বিবাহযোগ্য বয়স রয়েছে?
আমরা জানি পৃথিবীর প্রায় সকল দেশেই ছেলে কিংবা মেয়ে উভয়ের জন্য বিয়ের একটা নির্ধারিত বয়স থাকে। মেয়েরা যখন বয়ঃসন্ধি কালে পৌঁছে যায় তখন সে সন্তান গর্ভধারনের সক্ষমতা অর্জন করে বা বিয়ের জন্য পরিপক্ক হয়। স্থান-কাল-পাত্র বেদে পৃথিবীতে একেক দেশে একেক সময়ে মেয়দের বয়ঃসন্ধীকাল শুরু হয়। তাই বিয়ের ক্ষেত্রে মেয়েদের বয়স মূলত নির্ধারিত হয় তার শারিরীক সক্ষমতার উপরে। এই কারণে পৃথিবীর সকল দেশে কোনো নির্দিষ্ট করে নির্ধারিত বয়স নেই যেমন, বাংলাদেশে মেয়েরদের জন্য ১৮ এবং ছেলেদের ২১ বছর বৈধ হলেও, চীনে এই বয়সটি আবার অবৈধ। কারণ, চীনে বৈধ বিয়ের বয়স পুরুষের জন্য ২২ বা তার বেশি এবং মহিলাদের জন্য ২০ বা তার বেশি। (( Marriage Registration in China (china-consulate.gov.cn) )) এভাবে পৃথিবীর অনেক দেশের আইনের সাথে আরেক দেশের আইনের মিল থাকে না। এটা স্বাভাবিক একটি বিষয়। এই কারণে পৃথিবীর সকল দেশের Age of Consent এবং Age of Marriage এক নয়। Age of Consent হলো এমন একটি বয়স, যে বয়সে আইন অনুসারে কাউকে কারো সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপনে সম্মত হওয়ার জন্য যথেষ্ট বয়স্ক বলে মনে করা হয়। (( THE AGE OF CONSENT | English meaning - Cambridge Dictionary )) বিবাহযোগ্য বয়স বা Age of Marriage হল একটি আইনী বয়স হিসাবে বা পিতামাতার, ধর্মীয় বা অন্যান্য ধরণের সামাজিক অনুমোদন সাপেক্ষে ন্যূনতম বয়স হিসাবে, যেখানে একজন ব্যক্তিকে বৈধভাবে বিবাহের অনুমতি দেওয়া হয়। (( Marriageable age - Wikipedia )) ইউরোপীয় ইউনিয়ন এজেন্সি ফর ফান্ডামেন্টাল রাইটস এর দেওয়া তথ্য মতে, যেসকল দেশের Age of Consent ১৪ থেকে ১৫ বছর শ্রেণীভুক্ত দেশগুলি হল অস্ট্রিয়া, বুলগেরিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র, জার্মানি, ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া, গ্রীস, ফ্রান্স, ক্রোয়েশিয়া, হাঙ্গেরি, ইতালি, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, রোমানিয়া, সুইডেন, স্লোভেনিয়া এবং স্লোভাকিয়া, এবং আরো ১৭ টি দেশ। ১৬-১৭ বছর শ্রেণীভুক্ত দেশগুলি হল, বেলজিয়াম, সাইপ্রাস, স্পেন, ফিনল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, লিথুয়ানিয়া, লাক্সেমবার্গ, লাটভিয়া, নেদারল্যান্ডস এবং যুক্তরাজ্য, এবং আরো ১০ টি দেশ। ১৮ বছর শ্রেণীভুক্ত দেশ হলো ১টি। (( Data explorer - Age of consent for sexual activity with an adult (europa.eu) )) ইউনিসেফের দেওয়া তথ্য মতে, লাতিন আমেরিকা এবং ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে মেয়েদের প্রাথমিক যৌন দীক্ষার ক্ষেত্রে বিশ্বের সর্বোচ্চ হার রয়েছে। ২২ শতাংশের বেশি ১৫ বছর বয়সের আগে তাদের প্রথম যৌন মিলন করেছে। কিছু দেশে, হার ১৫ শতাংশে পৌঁছেছে। অঞ্চল জুড়ে যৌন সম্মতির জন্য সর্বনিম্ন বয়স ১৪ এবং ১৬ বছরের মধ্যে। তবুও কয়েকটি দেশে ১৪ বছরের কম বা ১৬ বছরের বেশি বয়স রয়েছে। (( file (unicef.org) )) বর্তমান সময়ে Age of consent ১৪-১৬ হলেও পূর্বে তা এমন ছিলো না। যেমন আমেরিকায় ১৮৯৯ সালে কিছু আমেরিকান বিচারব্যবস্থায় যৌন সম্মতির বয়স ছিল ৯ বছর! (( The age of sexual consent - PubMed (nih.gov) )) বর্তমানে যা ১৩-১৮ বছর (একেক অঞ্চলে একেক রকম)। আমরা যদি ইতিহাসে আরো পেছনে যেতে পারি তাহলে আরো কম বয়স লক্ষ্য করতে পারব। আবার যত সামনে এগুবো লক্ষ্য করলে দেখা যাবে অনুমোদিত বয়সের সীমা ক্রমাগত বাড়ছে। একটি বৈধ বিয়ের জন্য ইউরোপের দেশগুলোর নির্ধারিত বয়স ১৫-১৬ বছর শ্রেণীভুক্ত দেশগুলি হল অস্ট্রিয়া, বুলগেরিয়া, সাইপ্রাস, চেক প্রজাতন্ত্র, এস্তোনিয়া, স্পেন, ক্রোয়েশিয়া, হাঙ্গেরি, ইতালি, লিথুয়ানিয়া, লাটভিয়া, মাল্টা, পর্তুগাল, রোমানিয়া, স্লোভাকিয়া, যুক্তরাজ্য, এবং আরো ১৬ টি দেশ। পোল্যান্ডে বৈধ বিয়ের নির্ধারিত বয়স ১৬ বছর। শ্রেণীভুক্ত টি শ্রেণীগত মান সহ দেশগুলি, কিন্তু শুধুমাত্র মহিলারা পোল্যান্ড। জার্মানি, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস এবং সুইডেন সহ আরো ৪টি দেশে বিয়ের বৈধ বয়স ১৮ বছর। বিয়ের ক্ষেত্রে কোনো নির্ধারিত বয়স নেই এমন দেশসমূহ হলো, বেলজিয়াম, গ্রীস, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, আয়ারল্যান্ড, লুক্সেমবার্গ, স্লোভেনিয়া,এবং আরো ৭টি দেশ। (( Data explorer - Age at which children can marry with consent of a public authority and/or parents (europa.eu) )) অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, বিবাহের বয়স প্রতিটি রাজ্য এবং অঞ্চল দ্বারা নির্ধারিত হয় সাধারণ আইন দ্বারা বা পৃথক বিধি দ্বারা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একজন ব্যক্তি ১৮ বছর বয়সে পিতামাতার সম্মতি ছাড়াই বিয়ে করতে পারেন। তবে নেব্রাস্কা রাজ্য ছাড়া, সেখানে বিয়ের জন্য নির্ধারিত বৈধ বয়স ১৯ বছর। ওয়াশিংটন ডি সি তে বিয়ের জন্য নির্ধারিত বৈধ বয়স ১৬ বছর এবং মিসিসিপি রাজ্যে বিয়ের জন্য নির্ধাতির বৈধ বয়স ২১ বছর। (( Marriage in the United States - Wikipedia )) উপরিউক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতেই পারি যে, বিয়ে এবং যৌন সম্মতির জন্য নির্দিষ্ঠ একটি বৈধ বয়স নির্ধারিত নয়। একেক দেশে, একেক অঞ্চলে বৈধ বিয়ের জন্য নির্ধারিত বয়স একেক রকম। নাস্তিকদের একটি ওয়েবসাইটে তারা দাবি করেছে যে, "বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছানো এবং প্রাপ্তবয়ষ্ক হওয়া ভিন্ন বিষয়। বয়ঃসন্ধি হচ্ছে প্রাপ্তবয়ষ্ক হওয়ার একটি ধাপ, যা আসলে প্রাপ্তবয়ষ্ক হওয়া বোঝায় না। কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছানো মানেই ধরে নেয়া হয় সাবালিকা বা প্রাপ্তবয়ষ্ক হয়ে যাওয়া। যদিও আধুনিক বৈজ্ঞানিক ধ্যান ধারণা অনুসারে কথাটি সত্য নয়। বয়ঃসন্ধি হচ্ছে প্রাপ্তবয়ষ্ক হওয়ার লক্ষণের সুচনা। প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ হচ্ছেন একজন মানুষ যার তুলনামূলকভাবে পরিণত বয়স হয়েছে যা যৌন পরিপক্কতা ও পুনরূপাৎদনের ক্ষমতা অর্জনের সাথে জড়িত। একজন নারী বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছালেই সে সন্তান জন্ম দেয়ার পরিপক্কতা অর্জন করে না। বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছাবার পরে তার শরীর সন্তান জন্মদানের উপযুক্ত হতে সবে শুরু করে। এই প্রক্রিয়া কারো কারো ক্ষেত্রে ৩ আবার কারো কারো ক্ষেত্রে ৫ বছরে পূর্ণতা পায়। কিন্তু ইসলামে মেয়েদের সাথে যৌনকাজের জন্য বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছানোও জরুরি কিছু নয়। সেই বিষয়েই এই লেখাটি।" নাস্তিকরা এই দাবির স্বপক্ষে (বয়ঃসন্ধি মানেই প্রাপ্তবয়স্ক না, বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছালেই সন্তান জন্ম দেওয়ার পরিপক্কতা অর্জন করে না, বয়সন্ধির পরেও ৩-৫ বছর লাগে পূর্ণতা পেতে, ইসলামে যৌন কাজের জন্য বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছানও জরুরি কিছু নয়) কোনো ধরণের প্রমাণাদি উপস্থাপন করেনি। অথচ আমরা সুস্পষ্টভাবে দেখিয়েছি যে, বয়ঃসন্ধিকালেই একজন মেয়ে গর্ভধারণ বা সন্তান পরিপক্কতা অর্জন করে।একটি নির্দিষ্ট স্থান, কালের আইন দিয়ে কি অন্য একটি নির্দিষ্ট স্থান, কালের আইনকে অবৈধ বলা যায়?
ধর্ষণের সংজ্ঞা অনুযায়ী কোনো মানুষ যদি সে দেশের নির্ধারিত বৈধ বিয়ের বয়স হওয়ার পূর্বে কোনো মেয়েকে বিয়ে করে বা সহবাস করে তাহলে তা ধর্ষণ বলে বিবেচিত হবে। এখানে তাদের যুক্তিটি এমন যে, আমার দেশে মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ বছর। তাই পৃথিবীর অন্য যেসব দেশে বিয়ের জন্য নির্ধারিত বৈধ বয়স ১৮ এর কম, তাই সে দেশের সকল মানুষ ধর্ষক! এই দাবিটি একটি হাস্যকর দাবি বলে বিবেচিত হবে। কারণ, স্পেন, ক্রোয়েশিয়া, অস্ট্রিয়া সহ আরো অনেক দেশেই ১৬ বছর বয়সী মেয়ে এবং ছেলেদের বিচারিকের সম্মতিতে বিয়ে করা যেতে পারে। অন্যদিকে, জার্মানি, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস এবং সুইডেন সহ আরো অনেক দেশেই বিয়ের জন্য নির্ধারিত বয়স হয় ১৮ বছর। তাহলে কি জার্মানি, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস এবং সুইডেন সহ আরো অনেক দেশে বিয়ের জন্য নির্ধারিত বয়স ১৮ বছর হওয়ার কারণে, স্পেন, ক্রোয়েশিয়া, অস্ট্রিয়া সহ আরো যেসব দেশে বিয়ের জন্য নির্ধারিত বিয়ের বয়স ১৬ কিংবা আরো কম কম সেসব দেশের সব নাগরিকদের কি ধর্ষক বলে গণ্য করা হবে? শুধু তাই নয়, যুক্তরাজ্যে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারী মাস থেকে বিয়ের জন্য বৈধ বয়স নির্ধারণ করা হয় ১৮ বছর। (( Marriage in England and Wales - Wikipedia )) তাহলে কি ২০২৩ সালের পূর্বে যুক্তরাজ্যের সকল মানুষ ধর্ষক ছিলো আর এখন ২০২৩ সাল আসার পর সবাই এখন নিষ্পাপ হয়ে গিয়েছে? আবার, চিনে যেহেতু বিয়ের জন্য নির্ধারিত বয়স ২১ বছর, তাই যেসব দেশে বিয়ের বয়স ১৮ থাকার কারণে তাদের আইন অনুযায়ী ১৮ এর কম থাকা দেশের নাগরিকগণ যদি ধর্ষক হয়ে যায় তাহলে তো ১৮ বছর নির্ধারিত থাকা দেশের নাগরিকরাও চীন দেশের আইন অনুযায়ী ধর্ষক হয়ে যায়! শুধু তাই না! বর্তমানেও পৃথিবীর প্রায় সকল দেশ, এমনকি নাস্তিকদের স্বপ্নের দেশ ইউরোপ, আমেরিকা, এসব দেশের একটা ভিসা পাওয়ার লোভে যারা রাসুল (সাঃ) নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যাচারে লিপ্ত থাকে সারাদিন, সেখানেও মেয়েদের যৌন সম্মতির বয়স বা Age of Consent ১২-১৬ বছর। তাহলে নাস্তিকদের যুক্তি অনুযায়ী পৃথিবীর সকল মানুষই ধর্ষক! এমনকি নাস্তিক নিজেই একজন ধর্ষক! মজার বিষয় হচ্ছে বাংলাদেশের এক মূর্খ নাস্তিক মুহাম্মদ (সাঃ) ধর্ষক প্রমাণ করতে গিয়ে নিজেই নিজেকে ধর্ষক বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছে ফেইবুক লাইভে। সেই ধর্ষক নাস্তিকের নিজ মুখের স্বীকারোক্তিটি দেখে নিতে পারেন। Facebook উপরিউক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতেই পারি যে, একেক দেশের আইন দিয়ে অন্য দেশকে জাজ করাটা হবে বোকামি! তাই হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কত বছর বয়সের নারীকে বিয়ে করেছে, সেটা আমার দেশে বিবাহের আইনের সাথে যাচ্ছে না দেখে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ধর্ষক দাবি করাটা নির্বুদ্ধিতা ও গুণেধরা মস্তিষ্ক থেকে আসা চিন্তার ফল। বিয়ে এবং যৌন সম্মতির জন্য নির্দিষ্ঠ একটি বৈধ বয়স নির্ধারিত নয়। বরং, একেক দেশে, একেক অঞ্চলে, বৈধ বিয়ের জন্য নির্ধারিত বয়স একেক রকম।ইসলামে বিবাহের মূলনীতি
ইসলামে বিবাহের উত্তম পদ্ধতির শর্ত ৪টি। ১. প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়া ২. সহবাসের জন্য সক্ষম হতে হবে। ৩. বিয়ের জন্য মেয়ের সম্মতি থাকতে হবে। ৪. মেয়ের অভিবাবকের সম্মতি থাকতে হবে।প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার স্বপক্ষে দলীলঃ
ইসলাম অনুযায়ী ছেলে বা মেয়েদের বিবাহযোগ্য বয়স হলো প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়া। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা’আলা বলেন,আর তোমরা ইয়াতীমদেরকে পরীক্ষা কর যতক্ষণ না তারা বিবাহের বয়সে পৌঁছে। সুতরাং যদি তোমরা তাদের মধ্যে বিবেকের পরিপক্কতা দেখতে পাও, তবে তাদের ধন-সম্পদ তাদেরকে দিয়ে দাও। (( (4:6) An-Nisa | (৪:৬) আন-নিসা-অনুবাদ/তাফসীর (hadithbd.com) ))সূরা নিসার ৬ নং আয়াতে বলা হয়েছে ইয়াতীমদের পরীক্ষা করতে যতক্ষণ না তারা বিবাহের বয়সে পৌঁছায়। এই আয়াত থেকেই প্রমাণ হয় যে বিবাহের জন্য একটা বয়স আছে। তবে এই বয়স কোনো সংখ্যার বয়স নয়। এটা হলো প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়া বা শারীরীক, মানসিকভাবে সক্ষমতা অর্জন করা। সূরা নিসার ৬নং আয়াতের ব্যাখ্যায় তাফসীরে জালালাইনে বলা হয়েছে,
আর এতিমদেরকে পরীক্ষা কর বালেগ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত, তাদের ধর্মীয় এবং লেনদেনের বিষয়ে । অতঃপর বা বয়সের মাধ্যমে বিয়ের উপযুক্ত হয়ে যাবে। আর ইমাম শাফেয়ী (র.)-এর মতে, সেই বয়সটি হলো পনের বৎসর পরিপূর্ণ হওয়া। (( তাফসীরে জালালাইন; খন্ড নংঃ ১ পৃষ্ঠা নংঃ ৭৭১; ইসলামীয়া কুতুবখানা প্রকাশনি ))
ইসলামী ফাউন্ডেশন হতে প্রকাশতি তাফসীরে জালালাইনে বলা হয়েছে,
(যে পর্যন্ত না তাহারা বিবাহের বয়সে পৌছায়) অর্থাৎ, স্বপ্নদোষ বা বয়স হিসাবে উহার যোগ্য না হয় ততদিন (ইয়াতিমদিগের প্রতি লক্ষ্য রাখিবে)। অর্থাৎ, সাবালক হওয়ার পূর্বেই তাহাদের দ্বীনদারী এবং স্বীয় অবস্থা ও দায়িত্ব পরিচলানার বিষয়টি নিরীক্ষা করিবে। ইমাম শফিঈর অভিমত হইল, সাবালক হওয়ার বয়স হইল পনের বৎসর। (( তাফসীর ই জালালাইন; পৃষ্ঠা নং; ২৮৬ ))
এই আয়াতের ব্যাখ্যায় তাফসীরে আনওয়ারুল কুরআনে বলা হয়েছে,
আর তোমরা এতিমদের কে পরীক্ষা করে নাও, এপর্যন্ত যে, যখন তারা বিবাহে [-র বয়সে] পৌঁছে যায়, অনন্তর যদি তাদের মধ্যে কিয়ৎ পরিমাণ বুদ্ধিমত্তা দেখ, তবে তাদের ধন- সম্পত্তি তাদেরকে সমর্পণ করে দাও, আর ঐ : সমস্ত সম্পত্তি ভক্ষণ করো না অপব্যায়ে এবং তাড়াতাড়ি করে এই ধারণায় যে, তারা বালেগ হয়ে যাবে। ((তাফসীরে আনওয়ারুল কুরআন; খন্ড; ১, পৃষ্ঠা; ৫৯৩ ))
তাফসীরে আবু বকর যাকারিয়াতে বলা হয়েছে,
আয়াতে শিশুদের শিক্ষা-দীক্ষা ও যোগ্যতা যাচাই করার নির্দেশ দেয়া হচ্ছে। অর্থাৎ বালেগ হওয়ার আগেই ছোট ছোট দায়িত্ব দিয়ে তাদের যোগ্যতা যাচাই করতে থাক, যে পর্যন্ত না তারা বিবাহের পর্যায়ে পৌছে অর্থাৎ বালেগ হয়। (( (4:6) An-Nisa | (৪:৬) আন-নিসা-অনুবাদ/তাফসীর (hadithbd.com) ))তাফসীরে মা'আরেফুল কুরআনে বলা হয়েছে,
Once we know from verse 5 that minors should not be entrusted with properties until such time that their ability to discern and decide stands proved, the injunctions to educate and test such children to determine their ability follow in the next verse (6) Verse 6: وَابْتَلُوا الْيَتَامَىٰ حَتَّىٰ إِذَا بَلَغُوا النِّكَاحَ translated as 'and test the orphans until they reach marriageable age;' means that children, well before they become pubert and marriageable, should be tested through small assignments of buying and selling in order to determine their ability to conduct themselves in transactions on their own. This process of practical experimentation should continue right through upto the age of marriage-ability, that is, when they become pubert and mature. This is the time of special assessment. Now it should be determined if they have become smart and self-reliant in their affairs. Once this is sensed as 'dependable', it is time to hand over their property to them............... In accordance with the other injunction, when children become mature, pubert and marriageable, the guardian should check up their state of growth at that stage in terms of experience, intelligence and dealings, and once it becomes clear that they understand their profit and loss and handle their affairs and dealings in a satisfactory manner, their property should be handed over to them. (( Surah An-Nisa - 1-176 - Quran.com ))এই আয়াতের ব্যখ্যায় তাফসীরে তাবারীতে বলা হয়েছে,
আল্লাহ্ তা'আলা ইরশাদ করেন- وَ ابۡتَلُوا الۡیَتٰمٰی حَتّٰۤی اِذَا بَلَغُوا النِّکَاحَ (তোমরা ইয়াতীমদেরকে যাচাই করবে, যে পর্যন্ত না তারা বিয়ের যোগ্য হয়।) ...... ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, حَتّٰۤی اِذَا بَلَغُوا النِّکَاحَ এর ব্যখ্যায় বলেছেন যখন তাদের বিয়ের বয়স হয়। (( তাফসীরে তাবারী; খন্ড নং; ৭, পৃষ্ঠা নং; ৪৫ ))
তাফসীরে তাবারী, সূরা নিসা ৫ নং আয়াতের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে,
আল্লাহ্ তা'আলা অন্য আয়াতে ইরশাদ করেছেন- ইয়াতীমদেরকে যাচাই করতে থাকবে যে পর্যাপ্ত না তারা বিয়ে-যোগ্য হয় এবং তাদের মধ্যে ভাল-মন্দ বিচারের জ্ঞান দেখলে তাদের সম্পদ তাদেরকে ফিরিয়ে দেবে (৪ : ৬)। অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা ইয়াতীমদের অভিভাবকগণকে আদেশ করেন, তারা যেন ইয়াতীমদের অর্থ-সম্পদ তাদের নিকট ফিরিয়ে দেয়, যখন তারা বিয়ের যোগ্য হয় এবং ভাল-মন্দ বিবেচনা করার মত জ্ঞান-বুদ্ধি সম্পন্ন হয়। (( তাফসীরে তাবারী; খন্ড নং; ৭, পৃষ্ঠা নং; ৩৯ ))
এই আয়াতের ব্যখ্যায় তাফসীরে ইবনে কাসিরে বলা হয়েছে,
অতঃপর অল্লাহ তা'আলা বলেনঃ ‘তোমরা পিতৃহীনদের দেখাশুনা কর যে পর্যন্ত না তারা যৌবনে পদার্পণ করে।' এখানে- نِّکَاحَ, শব্দ দ্বারা প্রাপ্ত বয়স বুঝনো হয়েছে এবং প্রাপ্ত বয়সের পরিচয় তখনই পাওয়া যায় যখন এক বিশেষ প্রকারের স্বপ্ন দেখা যায় এবং এক বিশেষ প্রকারের পানি তীব্র বেগে বহির্গত হয় । * হযরত আলী (রাঃ) বলেনঃ ‘রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর উক্তিটি ভালভাবেই স্মরণ আছেঃ ‘স্বপ্নদোষের পর পিতৃহীনতাও নেই এবং সারা দিনরাত নীরব থাকাও নেই।' অন্য হাদীসে রয়েছেঃ ‘তিন প্রকারের লোক হতে কলম উঠিয়ে নেয়া হয়েছে। (১) শিশু, যে পর্যন্ত না সে প্রাপ্ত বয়স্ক হয়। (২) ঘুমন্ত ব্যক্তি, যে পর্যন্ত না সে জেগে উঠে । (৩) পাগল ব্যক্তি, যে পর্যন্ত না তার জ্ঞান ফিরে আসে। সুতরাং প্রাপ্ত বয়সের নিদর্শন একতো হচ্ছে এই । দ্বিতীয় নিদর্শন কারও কারও মতে এই যে, যখন তার বয়স পনেরো বছর হবে। এর দলীল হচ্ছে সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে হযরত ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটি, যাতে তিনি বলেনঃ ‘উহুদের যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (সঃ) আমাকে সঙ্গে নেননি। তখন আমার বয়স ছিল চৌদ্দ বছর। খন্দকের যুদ্ধের সময় আমাকে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নিকট হাযির করা হলে তিনি সম্মতন হন ৷ সে সময় আমার বয়স ছিল পনেরো বছর।' হযরত উমার ইবনে আবদুল আযীয (রঃ)-এর নিকট এ হাদীসটি পৌছলে তিনি বলেনঃ ‘প্রাপ্ত ও অপ্রাপ্ত বয়সের সীমা এটাই ।' প্রাপ্ত বয়সের তৃতীয় নিদর্শন হচ্ছে নাভীর নীচে চুল গজান। এ ব্যাপারে আলেমদের তিনটি উক্তি রয়েছে। প্রথম উক্তি এই যে, এটা প্রাপ্ত বয়সের চিহ্ন! দ্বিতীয় উক্তি এই যে, মুসলমানদের মধ্যে এটা প্রাপ্ত বয়সের চিহ্ন নয় এবং তৃতীয় উক্তি এই যে, মুসলমানদের মধ্যে এটা প্রাপ্ত বয়সের চিহ্ন নয় কিন্তু যিম্মীদের মধ্যে এটা প্রাপ্ত বয়সের চিহ্ন। কেননা, এটা সম্ভাবনা রয়েছে যে, কোন ঔষধের কারণে এ চুল তাড়াতাড়ি বেরিয়ে আসে এবং যুবক হওয়া মাত্রই যিম্মীদের উপর জিযিয়া কর ধার্য করা হয়। তাহলে তারা ওটা ব্যবহার করতে লাগলো কেন? কিন্তু সঠিক কথা এই যে, সকলের পক্ষেই এটা প্রাপ্ত বয়সের চিহ্ন। কেননা, প্রথমতঃ এটা প্রকৃতিগত ব্যাপার। প্রতিষেধকের সম্ভাবনা খুব দূরের সম্ভাবনা । প্রকৃত কথা এই যে, এ চুল স্বীয় সময়মতই বের হয়ে থাকে । দ্বিতীয় দলীল হচ্ছে—মুসনাদ-ই-আহমাদের হাদীসটি, যাতে হযরত আতিয়া যারাযীর (রাঃ) বর্ণনা রয়েছে, তিনি বলেনঃ 'বানূ কুরাইযার যুদ্ধের পর আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সামনে হাযির করা হয়। তিনি নির্দেশ দেনঃ ‘এক ব্যক্তি দেখুক যে, বন্দীদের মধ্যে যাদের এ চুল বের হয়েছে তাদেরকে হত্যা করা হবে এবং যাদের বের হয়নি তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হবে।' সে সময় আমার এ চুল বের হয়নি বলে আমাকে ছেড়ে দেয়া হয়।' সুনান-ই-আরবাআর মধ্যেও এ হাদীসটি রয়েছে এবং ইমাম তিরিমিযী (রঃ) এটাকে হাসান সহীহ বলেছেন। (( তাফসীরে ইবনে কাসীর; খন্ড ৪; পৃষ্ঠা নং; ২৮৪-২৮৭ ))ইসলামি আইন, ফতোয়া ও ফিকহ শাস্ত্র বিধিবদ্ধ ইসলামী আইন গ্রন্থে বিবাহের বয়স নিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে,
সাবালকত্ব ও জ্ঞান-বুদ্ধির উন্মেষেই বিবাহের বয়স। সাবালকত্ব বা বালেগ বলতে বুঝানো হয়, পুরুষের ক্ষেত্রে স্বপ্নদোষ বা পনেরো বৎসর বয়স হওয়া। আর মহিলার ক্ষেত্রে ঋতুবতী বা গর্ভধারণক্ষম হওয়া, অথবা পনেরো বৎসর বয়স হওয়া। সূরা নিসার ৬ নং আয়াত কে এই দাবির পক্ষে রেফারেন্স হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। (( বিধিবদ্ধ ইসলামী আইন; খন্ডঃ ১, পৃষ্ঠা; ৪৩১-৪৩২ ))
কুরআন, বিভিন্ন তাফসীর গ্রন্থ, ফিকহ গ্রন্থ থেকে আমরা দেখলাম যে, এই আয়াতে- نِّکَاحَ, শব্দ দ্বারা প্রাপ্ত বয়স বুঝনো হয়েছে এবং প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়া বা বিয়ের বয়স হওয়া। প্রাপ্ত বয়স্ক বা বিয়ের বয়সের আলামত হলো স্বপ্নদোষ হওয়া, পিউবিক এলাকায় চুল গজানো, এবং কারো কারো মতে বয়স ১৫ বছর হওয়া।
ছেলে এবং মেয়ে প্রাপ্ত বয়স্ক হয়েছে কি-না তা বুঝার উপায় নিয়ে আরো কিছু ফতোয়া;
বয়ঃসন্ধি হয় যখন পুরুষদের ক্ষেত্রে তিনটি জিনিসের মধ্যে একটি ঘটে:
- ভেজা স্বপ্ন
- পিউবিক এলাকায় মোটা চুলের বৃদ্ধি
- পনের বছর বয়সে পৌঁছানো
সহবাসের জন্য সক্ষম হওয়ার স্বপক্ষে দলিল
ইমাম শাফি‘ঈ ও তার সাথীগণ বলেছেন,পরিচ্ছেদঃ ৬৭/৩. বিয়ে করার যার সামর্থ্য নেই, সে সওম পালন করবে।
৫০৬৬. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে আমরা কতক যুবক ছিলাম; আর আমাদের কোন কিছু ছিল না। এই হালতে আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, হে যুব সম্প্রদায় [1]! তোমাদের মধ্যে যারা বিয়ে করার সামর্থ্য রাখে, তারা যেন বিয়ে করে। কেননা, বিয়ে তার দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থান হিফাযত করে এবং যার বিয়ে করার সামর্থ্য নেই, সে যেন সওম পালন করে। কেননা, সওম তার যৌনতাকে দমন করবে। [১৯০৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৯৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৯৬) বিবাহ করার সামর্থ্য বলতে দুইটি বিষয় বুঝানো হয়: প্রথম বিষযটি হলো: বিবাহ করার সামর্থ্য এবং নিজের স্ত্রীর ভরণপোষণের ক্ষমতা। দ্বিতীয় বিষযটি হলো: যৌন ক্ষমতা বা সংগমের ক্ষমতা। সুতরাং যে ব্যক্তি নিজের স্ত্রীর ভরণপোষণের ক্ষমতা রাখবে এবং যৌন ক্ষমতা বা সঙ্গমের ক্ষমতা রাখবে, সে ব্যক্তি বিবাহ করবে। (( সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন)| হাদিস:৫০৬৬ | Sahih al-Bukhari, Hadith No. 5066 (hadithbd.com ))
বাবা তাঁর মেয়েকে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পূর্বে তার অনুমতি ছাড়া বিবাহ না দেয়া মুস্তাহাব, যাতে সে অনিচ্ছা সত্ত্বেও স্বামীর সংসারে বন্ধি হতে বাধ্য না হয়। আর ছোট বিবাহিতার সাথে বাসরের সময়ের ব্যাপারে স্বামী এবং ওয়ালী যদি এমন বিষয়ে ঐকমত্য হয় যাতে ছোট মহিলার উপর ক্ষতির আশংকা নেই। তবে উক্ত মহিলার সঙ্গে বাসর কিংবা সহবাস করা যাবে। ইমাম মালিক, শাফি‘ঈ ও আবূ হানীফাহ্ (রহঃ) বলেনঃ উক্ত মহিলার সঙ্গে বাসর তখনই করা যাবে যখন তার সহবাসে সক্ষমতা আসবে, তবে এটা মহিলা ভেদে ভিন্ন হতে পারে। কোনো মহিলার যদি ৯ বছরের পূর্বেই সহবাসের সক্ষমতা আসে তবে তার সাথে বাসরে কোনো বাধা নেই। অন্যদিকে কোনো মহিলার ৯ বছরের পরেও যদি সহবাসের সক্ষমতা না আসে, তবে তার সঙ্গে বাসর করার অনুমতিও নেই। (( মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)| হাদিস:৩১২৯ | Mishkat al-Masabih, Hadith No. 3129 (hadithbd.com ))ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,
পরিচ্ছেদঃ ১৩/১৭. যে ব্যক্তি নিজের মালিকানাস্বত্বে প্রতিবেশীর জন্য ক্ষতিকর কিছু নির্মাণ করে
২/২৩৪১। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ক্ষতি করাও যাবে না, ক্ষতি সহাও যাবে না। (( সুনান ইবনু মাজাহ| হাদিস:২৩৪১ | Sunan ibn Majah, Hadith No. 2341 (hadithbd.com) ))
বিয়ের জন্য মেয়ের সম্মতি থাকার স্বপক্ষে দলীল
ইসলামে উত্তম বিবাহের অন্যতম একটি শর্ত হচ্ছে, বিয়েতে কনের সম্মতি থাকা। হাদিস নংঃ ১হাদিস নংঃ ২পরিচ্ছেদঃ ২. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - বিয়ের ওয়ালী (অভিভাবক) এবং নারীর অনুমতি গ্রহণ প্রসঙ্গে৩১৩৬-[১১]
আব্দুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক কুমারী মেয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট অভিযোগ করে বলল, তার অসম্মতিতে পিতা তাকে বিয়ে দিয়েছে। এটা শুনে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে (স্বামীর সংসারে থাকা বা না থাকার ইচ্ছার) অধিকার প্রদান করলেন। (আবূ দাঊদ)[1]
ব্যাখ্যাঃ আলোচ্য হাদীসে এ মর্মে দলীল রয়েছে যে, কুমারী মেয়েকে বিবাহের জন্য বাধ্য করা বাবার জন্য হারাম এবং বাবা ছাড়া অন্য কোনো ওয়ালী তাকে বিবাহে বাধ্য করতে পারবে না। জোরপূর্বক কোনো মেয়েকে বিবাহ দেয়া বাবার জন্য বৈধ নয়। এমন মত ব্যক্ত করেছেন ইমাম আবূ হানীফাহ্ (রহঃ)। (‘আওনুল মা‘বূদ ৪র্থ খন্ড, হাঃ ২০৯৬)। (( মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)| হাদিস:৩১৩৬ | Mishkat al-Masabih, Hadith No. 3136 (hadithbd.com) ))
পরিচ্ছেদঃ ৬৭/৪২. পিতা বা অভিভাবক কুমারী অথবা বিবাহিতা মেয়েকে তাদের সম্মতি ছাড়া বিয়ে দিতে পারে না। ৫১৩৬. আবূ সালামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) তাদের কাছে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোন বিধবা নারীকে তার সম্মতি ব্যতীত বিয়ে দেয়া যাবে না এবং কুমারী মহিলাকে তার অনুমতি ছাড়া বিয়ে দিতে পারবে না। লোকেরা জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল! কেমন করে তার অনুমতি নেয়া হবে। তিনি বললেন, তার চুপ থাকাটাই হচ্ছে তার অনুমতি। [1] [৬৯৭০; মুসলিম ১৬/৮, হাঃ ১৪১৯, আহমাদ ৯৬১১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৫৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৬০) [1] এ হাদীসের উপর ভিত্তি করে ইমাম আবূ হানীফা (রহ.) বলেছেন- অলী বিবাহিত ও অবিবাহিত মেয়েকে কোন নির্দিষ্ট ছেলেকে বিয়ে করতে বাধ্য করতে পারে না। অতএব পূর্বে বিবাহিত মেয়েদের কাছ থেকে বিয়ের জন্য রীতিমত আদেশ পেতে হবে এবং অবিবাহিত বালেগ মেয়ের কাছ থেকে যথারীতি অনুমতি নিতে হবে। এ সম্পর্কে ইমাম মুসলিম হাদীস বর্ণনা করেছেন- পূর্বে বিবাহিত মেয়েরা তাদের নিজেদের বিয়েতে মত জানানোর ব্যাপারে তাদের অলী অপেক্ষাও বেশি অধিকার রাখে। আর পূর্বে অবিবাহিত মেয়েদের নিকট তাদের পিতা বিয়ের মত জানতে চাইলে তাদের চুপ থাকাই তাদের অনুমতিজ্ঞাপক। ((সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন)| হাদিস:৫১৩৬ | Sahih al-Bukhari, Hadith No. 5136 (hadithbd.com) ))
মেয়ের অভিবাবকের সম্মতি থাকার স্বপক্ষে দলিল
হাদিস নংঃ ১পরিচ্ছেদঃ ৯/১৫. অভিভাবক ছাড়া বিবাহ হয় না। ১/১৮৭৯। ’আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে নারীকে তার অভিভাবক বিবাহ দেয়নি তার বিবাহ বাতিল, তার বিবাহ বাতিল, তার বিবাহ বাতিল। স্বামী তার সাথে সহবাস করলে তাতে সে মাহরের অধিকারী হবে। তাদের মধ্যে মতবিরোধ হলে সে ক্ষেত্রে যার অভিভাবক নাই, শাসক তার অভিভাবক। (( সুনান ইবনু মাজাহ| হাদিস:১৮৭৯ | Sunan ibn Majah, Hadith No. 1879 (hadithbd.com) ))হাদিস নংঃ ২
পরিচ্ছেদঃ ৬৭/৪৩. কন্যার অসন্তুষ্টিতে পিতা তার বিয়ে দিলে তা বাতিল বলে গণ্য হবে।
৫১৩৮. খানসা বিনতে খিযাম আল আনসারিয়্যাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বর্ণনা করেন যে, যখন তিনি অকুমারী ছিলেন তখন তার পিতা তাকে বিয়ে দেন। এ বিয়ে তিনি অপছন্দ করলেন। এরপর তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বিয়ে বাতিল করে দিলেন। [৫১৩৯, ৬৯৪৫, ৬৯৬৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৫৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৬২) (( সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন)| হাদিস:৫১৩৮ | Sahih al-Bukhari, Hadith No. 5138 (hadithbd.com) ))
কোনো পিতা চাইলে কী অপ্রাপ্ত বয়স্ক কুমারী মেয়েকে তার সম্মতি ছাড়াই বিয়ে পারে?
ইসলামে উত্তম বিবাহের শর্তের মধ্যে অন্যতম একটি শর্ত হলো মেয়ের সম্মতি নেওয়া। তবে অলি বা মেয়ের বাবা চাইলে মেয়ের সম্মতি ছাড়াই মেয়েকে বিয়ে দিতে পারবে। মুক্তমনা, নাস্তিকদের অভিযোগ হলো যেহেতু কুমারি বা অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েকে সম্মতি ছাড়াই দেওয়া বৈধ সেহেতু ইসলামে শিশু বিবাহ জায়েজ। এটা সত্য যে, কোনো পিতা চাইলে তার মেয়ে অপ্রাপ্ত বয়স্ক হলেও বিয়ে দিতে পারবে। কিন্তু এখানে কিছু শর্ত আছে। প্রথম শর্ত হলো এমন বিয়েতে সুস্পষ্ট কোনো কল্যাণ থাকতে হবে। দ্বিতীয় শর্ত হলো মেয়ে যতদিন সহবাস করার জন্য পরিপক্কতা অর্জন করবে না বা সক্ষমতা অর্জন করবে না ততদিন স্বামী তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করতে পারবে না। (( শারহে মুসলিম ৯/১০ খন্ড, হাঃ ১৪২২ )) (( Is it acceptable to marry a girl who has not yet started her menses? - Islam Question & Answer (islamqa.info) )) এক্ষেত্রে সাবালিকা হওয়ার পর মেয়ে চাইল উক্ত বিয়ে বাতিল করতে পারবে। হাদিসে উল্লেখিত হয়েছে,হাদিসে উল্লেখিত হয়েছে,পরিচ্ছেদঃ ৬৭/৪৩. কন্যার অসন্তুষ্টিতে পিতা তার বিয়ে দিলে তা বাতিল বলে গণ্য হবে।
৫১৩৮. খানসা বিনতে খিযাম আল আনসারিয়্যাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বর্ণনা করেন যে, যখন তিনি অকুমারী ছিলেন তখন তার পিতা তাকে বিয়ে দেন। এ বিয়ে তিনি অপছন্দ করলেন। এরপর তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বিয়ে বাতিল করে দিলেন। [৫১৩৯, ৬৯৪৫, ৬৯৬৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৫৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৬২) (( সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন)| হাদিস:৫১৩৮ | Sahih al-Bukhari, Hadith No. 5138 (hadithbd.com) ))
এই হাদিস দ্বারাই প্রমাণিত হয় যে, আয়েশা (রাঃ) শারিরীকভাবে সক্ষম ছিলো না বিধায় তাকে সক্ষমতা অর্জনের জন্য চিকিৎসা করানো হয়েছে এবং শারিরীক সক্ষমতা অর্জনের পরেই তিনি হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর নিকট গিয়েছে। যদি অপ্রাপ্ত বয়স্ক হলেও সহবাস করা যেত, তবে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) আয়েশা (রাঃ) কে ৬ বছর বয়সে বিয়ে করে ৯ বছর বয়সে ঘরে তুলে নিতেন না। ইবনে বাত্তাল (রহ) শরহে সহীহ বুখারী গ্রন্থে উল্লেখ করেন,পরিচ্ছেদঃ ২৩/৩৭. শসা ও তাজা খেজুর একত্রে মিশিয়ে খাওয়া
১/৩৩২৪। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার মা আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সংসারে পাঠাতে চাচ্ছিলেন বিধায় আমার দৈহিক পরিপুষ্টির জন্য চিকিৎসা করাতেন। কিন্তু তা কোন উপকারে আসলো না। অবশেষে আমি তাজা খেজুরের সাথে শসা মিশিয়ে খেলাম এবং উত্তমরূপে দৈহিক পরিপুষ্টি লাভ করলাম। (( সুনান ইবনু মাজাহ| হাদিস:৩৩২৪ | Sunan ibn Majah, Hadith No. 3324 (hadithbd.com) ))
উলামাদের ইজমা রয়েছে যে, পিতাদের জন্য তাদের অল্প বয়সী কন্যাদের বিবাহ দেওয়া জায়েজ এমনকি তারা দোলনায় থাকলেও। তবে তাদের স্বামীদের জন্য তাদের সাথে মিলন করা জায়েয নয় যতক্ষণ পর্যন্ত তারা সহবাস করার উপযুক্ত হয়। (( ইবনে বাত্তাল (রহ); শরহে সহীহ বুখারী; ৭ম খন্ড; ১৭২ ))
বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ ও গ্রহণযোগ্য ইসলামি ফিকহি প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক ইসলামি ফিকহ একাডেমি (IIFA)—যা ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (OIC)–এর অধীনে পরিচালিত—এই বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত প্রদান করেছে। সেখানে বলা হয়েছে,
আমাদের প্রশ্ন হলো, কেন একটি বাল্যবিবাহকে আমরা খারাপ বলি? এর উত্তর হলো, বাল্যবিবাহ মানে এমন একজন মেয়ে বা ছেলের বিবাহ হওয়া যারা এখনো শারীরিক সম্পর্ক করার জন্য পরিপক্কতা অর্জন করেনি বা মানসিকভাবেও পরিপক্কতা অর্জন করেনি। এখন ইসলামে অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েকে বিয়ে দেওয়া জায়েজ শর্ত সাপেক্ষে। শর্তগুলোর মধ্যে একটি হলো, সুস্পষ্ট কল্যাণ থাকতে হবে এবং অন্যটি হলো স্ত্রী যতদিন শারীরিক সম্পর্কের জন্য পরিপক্ক হবে না ততদিন তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করা নিষেধ। তাহলে সাধারণত আমরা যেটাকে শিশু বিবাহ বা বাল্যবিবাহ বলে থাকি, যেখানে একজন শিশু বা অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়ের সাথে বিবাহের পর শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয়, মেয়ে এই শর্তে বিবাহও বাতিল করতে পারবে না যে, 'তার বিয়ে অপ্রাপ্ত বয়স্ক হয়েছে, এখন সে প্রাপ্ত বয়স্ক তাই সে এখন বিয়ে বাতিল করতে পারবে! কিন্তু ইসলামে অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েকে বিয়ে করার পর তার সাথে সহবাস করা ততদিন পর্যন্ত জায়েজ নেই, যতদিন স্ত্রী সহবাস করার জন্য পরিপক্ক হবে। আবার যেহেতু স্ত্রীর বিয়ে হয়েছে অপ্রাপ্ত বয়স্ক থাকাকালীন তাই তার সম্মতি প্রদানের কোনো সুযোগ ছিলোনা বিধায় প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার পর স্ত্রী চাইলে উক্ত বিবাহ বাতিল করতে পারে। সুতরাং, প্রচলিত বাল্যবিবাহ বা শিশু বিবাহের সাথে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই।ফতোয়া নং ২১৭ (২৩/১)
বিষয়:
শরিয়াহর দৃষ্টিকোণ থেকে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের বিবাহ: অভিভাবকের অধিকার, মেয়ের কল্যাণ এবং তা প্রতিরোধ বা নিয়ন্ত্রণে শাসকের কর্তৃত্বের পরিসরইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (OIC) অন্তর্ভুক্ত আন্তর্জাতিক ইসলামি ফিকহ একাডেমির কাউন্সিল, ১৪৪০ হিজরির সফর মাসের ১৯–২৩ তারিখে (মোতাবেক ২৮ অক্টোবর – ১ নভেম্বর ২০১৮) মদিনা মুনাওয়ারায় অনুষ্ঠিত ২৩তম অধিবেশনে—
উপরোক্ত বিষয়ের ওপর একাডেমিতে পেশকৃত গবেষণা প্রবন্ধসমূহ পর্যালোচনা করার পর, এ বিষয়ে বিস্তৃত আলোচনা শ্রবণ করার পর, নিম্নোক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে:
অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে বলতে এমন মেয়েকে বোঝায়, যে এখনো বয়ঃসন্ধিতে উপনীত হয়নি। তবে বিবাহের জন্য উপযুক্ত বয়স সাধারণত ১৫ থেকে ১৬ বছর, যা এর উপযোগিতা ও ইসলামি ফকিহদের নির্ধারণ অনুযায়ী বিবেচিত।
ইসলামি শরিয়াহ বিবাহের জন্য নির্দিষ্ট কোনো বয়স নির্ধারণ করেনি। দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপন ও পরিবার গঠনের উপযোগী বয়স সময়, স্থান ও বিবাহচুক্তিতে অংশগ্রহণকারী উভয় পক্ষের সক্ষমতা অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।
পিতা তার কন্যার প্রতি যে দয়া ও মমতা প্রদর্শনের জন্য বাধ্য, এবং তার কল্যাণ রক্ষার যে দায়িত্ব তার ওপর ন্যস্ত—তার ভিত্তিতে, কাজির (বিচারকের) অনুমতি সাপেক্ষে পিতার তার কন্যাকে বিবাহ দেওয়ার অধিকার রয়েছে। তবে যদি ঐ বিবাহে মেয়ের ক্ষতি হয়, তাহলে পিতার জন্য তাকে বিবাহ দেওয়া নিষিদ্ধ।
যদি আইনগত অভিভাবক পিতা না হন, তাহলে অনুচ্ছেদ (১)-এ উল্লিখিত বয়ঃসন্ধিতে উপনীত না হওয়া পর্যন্ত তিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে বিবাহ দিতে পারবেন না।
অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের বিবাহের বয়স নির্ধারণ বিচারকের অনুমতির মাধ্যমে গণ্য হবে। প্রত্যেক রাষ্ট্র সময়, স্থান ও বয়সের প্রেক্ষাপট এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের কল্যাণ বিবেচনায় নিয়ে বিবাহের বয়স নির্ধারণের এখতিয়ার রাখে, এবং এ ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট দেশের আইনগত কর্তৃপক্ষের ওপর ন্যস্ত থাকবে।
বিবাহ প্রক্রিয়ায় অবশ্যই মেয়ের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
পিতার অভিভাবকত্ব কিংবা অন্য যে কোনো অভিভাবকত্ব—সবই মেয়ের কল্যাণ বাস্তবায়নের শর্তের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
বিবাহের ক্ষেত্রে মেয়ের সম্মতি গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক। তার সম্মতি ও সন্তুষ্টি ছাড়া তাকে বিবাহ দেওয়া বৈধ নয়। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদিস অনুযায়ী:
“কুমারী মেয়ের কাছ থেকে বিবাহের অনুমতি নিতে হবে; আর তার অনুমতি হলো তার নীরবতা। আর যে নারী পূর্বে বিবাহিত হয়েছে, সে নিজ ব্যাপারে তার অভিভাবকের চেয়ে অধিক অধিকারী।”
যদি কোনো মেয়েকে তার সম্মতি ছাড়া বিবাহ দেওয়া হয়, তাহলে তার বিবাহ বাতিল করার অধিকার রয়েছে।
প্রত্যেক রাষ্ট্র মেয়ের, পরিবারের ও সমাজের কল্যাণ বিবেচনায় উপযুক্ত বিবাহের বয়স নির্ধারণের অধিকার রাখে। একই সঙ্গে, বিচারকের অনুমতি ছাড়া কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে জোরপূর্বক বিবাহ দেওয়ার ক্ষেত্রে উপযুক্ত শাস্তি নির্ধারণ করার অধিকারও রাষ্ট্রের রয়েছে।
অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের বিবাহের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যগত মানদণ্ড বাস্তবায়ন করতে হবে, যার ন্যূনতম বয়স ১৫ থেকে ১৬ বছর। এসব মানদণ্ড পূরণ না করে কোনো তরুণীকে বিবাহে সহায়তা করা বা বাধ্য করা বৈধ নয়। এই মানদণ্ড নির্ধারণ করবেন বিশ্বস্ত চিকিৎসকগণ। (( Resolution No. 217 (1/23) on Young Girls Marriage between the Right of the Guardian, the Girl’s Welfare, and the Extent of the Ruler’s Authority in its Prevention or Regulation, from Shariah Perspective. – International Islamic Fiqh Academy ))
সূরা তালাক এর ৪ নং আয়াত কি সত্যিই শিশুদের সাথে সহবাস বৈধ করেছে?
অমুসলিম সমালোচকরা প্রায়ই সূরা তালাকের এই আয়াতটি তুলে ধরে অভিযোগ করে যে, ইসলাম নাকি শিশুদের সাথে বিয়ে ও সহবাসকে বৈধ করেছে। আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যারা ঋতুবর্তী হওয়ার কাল অতিক্রম করে গেছে, তাদের ইদ্দত সম্পর্কে তোমরা যদি সংশয়ে থাক এবং যারা এখনও ঋতুর বয়সে পৌঁছেনি তাদের ইদ্দতকালও হবে তিন মাস। আর গর্ভধারিনীদের ইদ্দতকাল সন্তান প্রসব পর্যন্ত। যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য তার কাজকে সহজ করে দেন। (( সূরা আত-ত্বলাক্ব (At-Talaq) - বাংলা অনুবাদ, তাফসীর, শব্দে শব্দে অর্থ ও তাজউইদ সহ তিলাওয়াত ))তাদের দাবি হলো; এখানে “যারা এখনো ঋতুর বয়সে পৌঁছেনি” বলা হয়েছে। অর্থাৎ অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের কথা বলা হয়েছে। আবার তাদের জন্য ইদ্দতও নির্ধারণ করা হয়েছে। আর ইদ্দত তো কেবল সহবাসের পরই আসে। তাই তারা সিদ্ধান্ত টানে যে, ইসলাম শিশুদের সাথে সহবাস বৈধ করেছে।
আয়াতে “যারা ঋতুমতী হয়নি” কথাটি শুধু ছোট মেয়েদের বোঝায় না
আবদুর রহমান আল-মু‘আল্লিমী আল-ইয়ামানী খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন:
﴿وَاللَّائِي لَمْ يَحِضْنَ﴾
“যারা এখনো ঋতুমতী হয়নি”
এই কথাটি শুধু ছোট মেয়েদের জন্য নির্দিষ্ট নয়। বরং এতে এমন নারীরাও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে যারা:
- প্রাপ্তবয়স্ক,
- কিন্তু কোনো অসুস্থতা, হরমোনজনিত সমস্যা বা শারীরিক কারণে ঋতুমতী হয় না।
অর্থাৎ আয়াতটি সরাসরি এই আয়াতকে সরাসরি ছোট মেয়েদের বিয়ে বৈধ হওয়ার চূড়ান্ত দলিল বলা ঠিক নয়।
তিনি বলেন, আয়াতটির প্রসঙ্গ হলো যদি কোনো তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর ঋতুস্রাব না হয়, তাহলে তার ইদ্দত কী হবে? এখানে আল্লাহ একটি বিদ্যমান পরিস্থিতির হুকুম বলছেন। কিন্তু শুধু কোনো ঘটনার অস্তিত্ব উল্লেখ করা মানেই সেই বিষয়টিকে বৈধ ঘোষণা করা নয়।
উদাহরণ হিসেবে আল-মু‘আল্লিমী বলেন:
ধরুন কেউ বলল:
“বানু তামীম গোত্রের সব লম্বা মানুষ সম্মানিত।”
এর মানে কি পৃথিবীর সব লম্বা মানুষকে বানু তামীম বানানো যাবে? না।
ঠিক তেমনি:
- আয়াতে কিছু “ঋতুহীন স্ত্রী”-র ইদ্দতের বিধান এসেছে,
- কিন্তু এর দ্বারা সরাসরি “সব ছোট মেয়েকে বিয়ে করা বৈধ” — এই সিদ্ধান্ত আবশ্যকভাবে বের হয় না।
“কোনো কুমারী মেয়েকে তার অনুমতি ছাড়া বিয়ে দেওয়া যাবে না।”
তিনি বলেন, এই হাদিসের সাধারণ অর্থের মধ্যে ছোট মেয়েও পড়ে। কারণ ছোট মেয়ে হলেও সে “কুমারী” শব্দের অন্তর্ভুক্ত। অনেক আলেম বলেন, ছোট মেয়ের অনুমতির কোনো মূল্য নেই, কারণ সে তখনো বিয়ে, দায়িত্ব বা সম্মতির বিষয় বোঝে না। তাই তারা বলেন, এই হাদিস মূলত বালেগ মেয়েদের জন্য। কিন্তু আল-মু‘আল্লিমী বলেন, শুধু “সে এখন বুঝে না” — এই কারণ দেখিয়ে ছোট মেয়েকে হাদিসের সাধারণ অর্থ থেকে বের করে দেওয়া যথেষ্ট নয়। কারণ প্রকৃত ও অর্থপূর্ণ সম্মতি তখনই সম্ভব, যখন মেয়ে বালেগ হবে এবং বুঝে নিজের মত প্রকাশ করতে পারবে। (( ص114 - كتاب الفوائد الحديثية ضمن آثار المعلمي - باب تزويج الصغار من الكبار تزويج عائشة - المكتبة الشاملة ))
অর্থাৎ, তিনি বলতে চেয়েছেন যে, বিয়ের শর্ত হলো মেয়ের অনুমতি থাকতে হবে। আর অনুমতি কেবল প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের থেকেই নেওয়া যায়। কাজেই বিয়ে কিংবা সহবাস কেবল তাদেরই করা যায় যারা প্রাপ্ত বয়স্ক। এদিক থেকে নাস্তিকরা যে অভিযোগ করেন অপ্রাপ্ত বয়স্ক নারীদের সাথে সহবাস করা যায় এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণিত হয়।
কাজেই, সূরা তালাকের ৪ নং আয়াতকে “ইসলাম শিশুদের সাথে সহবাস বৈধ করেছে” — এই দাবির সরাসরি ও চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা সঠিক নয়। আয়াতটি মূলত ইদ্দতের বিধান আলোচনা করছে, এবং “যারা ঋতুমতী হয়নি” — এই বাক্যটি কেবল ছোট মেয়েদের জন্য নির্দিষ্টও নয়।