প্রশ্ন
আসসালামু আলাইকুম।
আসসালামু আলাইকুম।
মাঝেমাঝে অনেককে বলতে শুনি ‘কাফের বা অমুসলিমদের ঘৃণা করতে হবে’—তখন এই ঘৃণাটা আসলে কার প্রতি? আমি কি তাকে একজন ‘ব্যক্তি’ হিসেবে মনে মনে ঘৃণা করব, নাকি শুধু তার ভুল ‘বিশ্বাস’ বা কাজকে অপছন্দ করব?
ইসলাম কি আমাদের শান্তিকামী অমুসলিমদের ব্যক্তি সত্তাকে ঘৃণা করতে বলে, নাকি শুধু তাদের অবাধ্যতা ও কুফরি বিশ্বাসকে অপছন্দ করতে বলে? এ বিষয়ে শরীয়তের সঠিক ব্যাখ্যাটি দয়া করে বুঝিয়ে বলবেন।"
অফিসিয়াল উত্তর
ওয়ালাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
এই বিষয়ে অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা রয়েছে। ইসলামে "কুফর" ও "কাফের" সম্পর্কে অবস্থান বুঝতে হলে আমাদের দুটি বিষয় আলাদা করতে হবে:
(১) ব্যক্তি (Person)
(২) তার বিশ্বাস ও কর্ম (Belief and Actions)
ইসলাম আমাদের কুফর, শিরক ও আল্লাহর অবাধ্যতাকে অপছন্দ করতে শেখায়। কারণ এগুলো আল্লাহর নিকট সবচেয়ে বড় গুনাহ। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে প্রত্যেক অমুসলিম ব্যক্তির প্রতি অন্যায়, বিদ্বেষ বা নিষ্ঠুরতা প্রদর্শন করতে হবে।
বরং কুরআন আমাদেরকে শান্তিপূর্ণ অমুসলিমদের সঙ্গে ন্যায়বিচার ও সদাচরণ করার নির্দেশ দিয়েছে।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
"দীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করেনি, আর তোমাদেরকে তোমাদের ঘর-বাড়ী থেকে বের ক’রে দেয়নি তাদের সঙ্গে সদয় ব্যবহার করতে আর ন্যায়নিষ্ঠ আচরণ করতে আল্লাহ নিষেধ করেন নি। আল্লাহ ন্যায়পরায়ণদেরকে ভালবাসেন।" (সূরা আল-মুমতাহিনাহ ৬০:৮)
এমনকি মুশরিকদের ব্যাপারেও আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন:
"মুশরিকদের কেউ যদি তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে তবে তাকে আশ্রয় দাও যাতে সে আল্লাহর বাণী শোনার সুযোগ পায়; তারপর তাকে তার নিরাপদ জায়গায় পৌঁছে দাও। এটা এজন্য করতে হবে যে, এরা এমন এক সম্প্রদায় যারা (ভাল-মন্দ, সত্য-মিথ্যা সম্পর্কে) অজ্ঞ। " (সূরা আত-তাওবাহ ৯:৬)
লক্ষ্য করুন, এখানে শুধু আশ্রয় দেওয়ার কথাই বলা হয়নি; বরং আল্লাহর বাণী শোনানোর পর তাকে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে ইসলাম অমুসলিমদের প্রতি ন্যায়, দয়া ও মানবিক আচরণের শিক্ষা দেয়।
তবে একই সঙ্গে একজন মুসলিম কখনো কুফর ও শিরককে ভালোবাসতে পারে না। আল্লাহ তাআলা বলেন:
"তোমরা ইবরাহিম ও তাঁর অনুসারীদের মধ্যে উত্তম আদর্শ পেয়েছ। যখন তারা তাদের সম্প্রদায়কে বলেছিল, ‘আমরা তোমাদের থেকে এবং তোমরা আল্লাহ ছাড়া যাদের ইবাদত কর তাদের থেকে সম্পর্কমুক্ত। আমরা তোমাদের কুফরকে প্রত্যাখ্যান করি।’" (সূরা আল-মুমতাহিনাহ ৬০:৪)
তাই একজন মুমিনের অন্তরে কুফরি বিশ্বাসের প্রতি বিরাগ থাকবে, কারণ তা আল্লাহর অবাধ্যতা। কিন্তু সেই কারণে সে কোনো অমুসলিমের প্রতি জুলুম করবে না।
এ কারণেই পরবর্তী আয়াতে আল্লাহ তাআলা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে নিষেধাজ্ঞা সব অমুসলিমের ব্যাপারে নয়, বরং তাদের ব্যাপারে যারা মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে:
"আল্লাহ তোমাদেরকে কেবল তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করেছেন যারা তোমাদের সঙ্গে দীনের ব্যাপারে যুদ্ধ করেছে, তোমাদেরকে তোমাদের ঘর-বাড়ী থেকে বের করে দিয়েছে আর তোমাদেরকে বের করে দেয়ার ব্যাপারে সাহায্য করেছে। যারা তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে তারাই যালিম।" (সূরা আল-মুমতাহিনাহ ৬০:৯)
অতএব, ইসলামের অবস্থান অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ:
* **কুফর, শিরক ও আল্লাহর অবাধ্যতাকে ঘৃণা করতে হবে।**
* **শান্তিপূর্ণ অমুসলিমদের প্রতি ন্যায়বিচার ও সদাচরণ করতে হবে।**
* **তাদের জন্য হিদায়াত কামনা করতে হবে।**
* **যারা মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ও ষড়যন্ত্র করে, তাদের প্রতি আনুগত্য ও ঘনিষ্ঠ মিত্রতা নিষিদ্ধ।**
* **কোনো ব্যক্তিকে শুধু অমুসলিম হওয়ার কারণে ঘৃণা, জুলুম বা অন্যায় করা ইসলামের শিক্ষা নয়।**
সংক্ষেপে, **মুসলিম কুফরকে ঘৃণা করে, কিন্তু মানুষের জন্য হিদায়াত কামনা করে। সে ভ্রান্ত বিশ্বাসকে প্রত্যাখ্যান করে, কিন্তু ন্যায়, দয়া ও উত্তম চরিত্রের মাধ্যমে মানুষকে সত্যের দিকে আহ্বান করে।**
এই বিষয়ে অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা রয়েছে। ইসলামে "কুফর" ও "কাফের" সম্পর্কে অবস্থান বুঝতে হলে আমাদের দুটি বিষয় আলাদা করতে হবে:
(১) ব্যক্তি (Person)
(২) তার বিশ্বাস ও কর্ম (Belief and Actions)
ইসলাম আমাদের কুফর, শিরক ও আল্লাহর অবাধ্যতাকে অপছন্দ করতে শেখায়। কারণ এগুলো আল্লাহর নিকট সবচেয়ে বড় গুনাহ। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে প্রত্যেক অমুসলিম ব্যক্তির প্রতি অন্যায়, বিদ্বেষ বা নিষ্ঠুরতা প্রদর্শন করতে হবে।
বরং কুরআন আমাদেরকে শান্তিপূর্ণ অমুসলিমদের সঙ্গে ন্যায়বিচার ও সদাচরণ করার নির্দেশ দিয়েছে।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
"দীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করেনি, আর তোমাদেরকে তোমাদের ঘর-বাড়ী থেকে বের ক’রে দেয়নি তাদের সঙ্গে সদয় ব্যবহার করতে আর ন্যায়নিষ্ঠ আচরণ করতে আল্লাহ নিষেধ করেন নি। আল্লাহ ন্যায়পরায়ণদেরকে ভালবাসেন।" (সূরা আল-মুমতাহিনাহ ৬০:৮)
এমনকি মুশরিকদের ব্যাপারেও আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন:
"মুশরিকদের কেউ যদি তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে তবে তাকে আশ্রয় দাও যাতে সে আল্লাহর বাণী শোনার সুযোগ পায়; তারপর তাকে তার নিরাপদ জায়গায় পৌঁছে দাও। এটা এজন্য করতে হবে যে, এরা এমন এক সম্প্রদায় যারা (ভাল-মন্দ, সত্য-মিথ্যা সম্পর্কে) অজ্ঞ। " (সূরা আত-তাওবাহ ৯:৬)
লক্ষ্য করুন, এখানে শুধু আশ্রয় দেওয়ার কথাই বলা হয়নি; বরং আল্লাহর বাণী শোনানোর পর তাকে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে ইসলাম অমুসলিমদের প্রতি ন্যায়, দয়া ও মানবিক আচরণের শিক্ষা দেয়।
তবে একই সঙ্গে একজন মুসলিম কখনো কুফর ও শিরককে ভালোবাসতে পারে না। আল্লাহ তাআলা বলেন:
"তোমরা ইবরাহিম ও তাঁর অনুসারীদের মধ্যে উত্তম আদর্শ পেয়েছ। যখন তারা তাদের সম্প্রদায়কে বলেছিল, ‘আমরা তোমাদের থেকে এবং তোমরা আল্লাহ ছাড়া যাদের ইবাদত কর তাদের থেকে সম্পর্কমুক্ত। আমরা তোমাদের কুফরকে প্রত্যাখ্যান করি।’" (সূরা আল-মুমতাহিনাহ ৬০:৪)
তাই একজন মুমিনের অন্তরে কুফরি বিশ্বাসের প্রতি বিরাগ থাকবে, কারণ তা আল্লাহর অবাধ্যতা। কিন্তু সেই কারণে সে কোনো অমুসলিমের প্রতি জুলুম করবে না।
এ কারণেই পরবর্তী আয়াতে আল্লাহ তাআলা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে নিষেধাজ্ঞা সব অমুসলিমের ব্যাপারে নয়, বরং তাদের ব্যাপারে যারা মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে:
"আল্লাহ তোমাদেরকে কেবল তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করেছেন যারা তোমাদের সঙ্গে দীনের ব্যাপারে যুদ্ধ করেছে, তোমাদেরকে তোমাদের ঘর-বাড়ী থেকে বের করে দিয়েছে আর তোমাদেরকে বের করে দেয়ার ব্যাপারে সাহায্য করেছে। যারা তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে তারাই যালিম।" (সূরা আল-মুমতাহিনাহ ৬০:৯)
অতএব, ইসলামের অবস্থান অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ:
* **কুফর, শিরক ও আল্লাহর অবাধ্যতাকে ঘৃণা করতে হবে।**
* **শান্তিপূর্ণ অমুসলিমদের প্রতি ন্যায়বিচার ও সদাচরণ করতে হবে।**
* **তাদের জন্য হিদায়াত কামনা করতে হবে।**
* **যারা মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ও ষড়যন্ত্র করে, তাদের প্রতি আনুগত্য ও ঘনিষ্ঠ মিত্রতা নিষিদ্ধ।**
* **কোনো ব্যক্তিকে শুধু অমুসলিম হওয়ার কারণে ঘৃণা, জুলুম বা অন্যায় করা ইসলামের শিক্ষা নয়।**
সংক্ষেপে, **মুসলিম কুফরকে ঘৃণা করে, কিন্তু মানুষের জন্য হিদায়াত কামনা করে। সে ভ্রান্ত বিশ্বাসকে প্রত্যাখ্যান করে, কিন্তু ন্যায়, দয়া ও উত্তম চরিত্রের মাধ্যমে মানুষকে সত্যের দিকে আহ্বান করে।**