ইসলামে পুরুষ ৩/৯ বার তালাক বললেই তালাক হয়ে যায়। অর্থাৎ ইসলামে তালাক দেয়া খুবই সহজ। কিন্তু বিয়ে করার ক্ষেত্রে সাক্ষী, মোহর , পাত্র পাত্রী উভয়ের সম্মতি লাগে। আবার তালাক কেবল ছেলেরাই দিতে পারে মেয়েরা না। এটা কি নারীর প্রতি অন্যায় নয়? পুরুষ তো চাইলে এভাবে ৪ বিয়ে, ৪ তালাক, ৪ বিয়ে.... করতেই থাকবে।
অন্যান্য উত্তরসমূহ (1)
1. ইসলামে তালাক কেবল পুরুষের হাতেই সীমাবদ্ধ—এমন ধারণা সঠিক নয়। ইসলামে বিবাহবিচ্ছেদের জন্য পুরুষকে তালাক এবং নারীকে 'খুলা' বা 'ফাসখ' অধিকার দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিয়ের আকদ বা চুক্তির সময়ই শর্ত হিসেবে স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার আইনি ক্ষমতা দেওয়া যায়, যাকে ‘তালাক-ই-তাফউইজ’ বলে। আবার জুলুমের শিকার হলে নারী বা পুরুষ শরিয়া আাইনে বিচার ও আাইনি সহায়তার অধিকার পায়, তাযিরের আাওতায় এখানে বিদবদ্ধ আাইনের বাইরেও বিচারের সুযোগ রয়েছে । এ বিষয়ে বিস্তারিত https://islamicauthors.com/author/article/162
2. বিয়ে একটি নতুন চুক্তি (عقد) প্রতিষ্ঠা করে, তাই এর জন্য কিছু শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে , এসব শর্তের উদ্দেশ্য হলো নারী-পুরুষের অধিকার সংরক্ষণ করা এবং গোপন বা প্রতারণামূলক সম্পর্ক রোধ করা। অন্যদিকে, তালাক একটি বিদ্যমান বৈবাহিক চুক্তি সমাপ্ত করার ঘোষণা। তাই এর পদ্ধতি আলাদা।ইসলামে বিয়ের ক্ষেত্রে সাক্ষী, মোহর ও উভয়ের সম্মতি আবশ্যক — এটি সত্য। কিন্তু তালাক "সহজ" এই দাবিটি ভুল । কারণ তালাক দিলে স্বামীকে বাকি সম্পূর্ণ মোহর পরিশোধ করতে হয়, ইদ্দতকালীন তিন মাস স্ত্রীর বাসস্থান ও খোরপোশ বহন করতে হয়, সন্তান থাকলে ভরণপোষণ দিতে হয় — অর্থাৎ তালাক উচ্চারণগতভাবে সহজ হলেও আর্থিকভাবে অত্যন্ত ভারী। এছাড়া প্রথম ও দ্বিতীয় তালাকের পর ইদ্দতের মধ্যে রুজু করার সুযোগ থাকে, ফলে এটি তাৎক্ষণিক বিচ্ছেদ নয়। মূলত তালাককে আইনগতভাবে সহজ রাখা হয়েছে যাতে অত্যাচারী পরিস্থিতিতে কেউ আটকে না থাকে — কিন্তু রাসূলুল্লাহ ﷺ একে "আল্লাহর কাছে সবচেয়ে ঘৃণিত হালাল" বলে নৈতিকভাবে ভারী করে রেখেছেন। সুতরাং বিয়ে ও তালাকের শর্তের পার্থক্য কোনো বৈষম্য নয়, বরং দুটি ভিন্ন উদ্দেশ্যের জন্য দুটি ভিন্ন কাঠামো।