প্রশ্ন
মাজহাবের গুরুত্ত কতটুকু,,,??
অফিসিয়াল উত্তর
এই বিষয়ে বিস্তারিজ জানতে এই লিখাটি পড়ুনঃ আমার মাযহাব-ভাবনা, আব্দুল আলীম ইবনে কাওছার মাদানী - ফেব্রুয়ারি ২০২৫ - মাসিক আল-ইতিছাম
অন্যান্য উত্তরসমূহ (1)
উত্তরদাতা: মুফতি তাহমীদ আনাছ
মাযহাব হাতে গোনা কিছু যোগ্য ব্যক্তি ছাড়া সবার জন্য মাযহাব মানা আবশ্যক।
•কেও বলেন মাযহাব মানা লাগবে কেও বলেন লাগবে না, আসুন কোরআন হাদিস থেকে সঠিক তথ্য জেনে নেই।
•যারা বলেন মাযহাব মানা দরকার নাই, তাদের যুক্তি কোরআন একটি রাসূল একজন মাযহাব কেন একাধিক হবে? এটা উম্মতের ভিতর বিভক্তি সৃষ্টি করে।
✓উনাদের এই দাবির উত্তর দুই ভাবে দেওয়া যায়।
* এক) কোরআন একটি কিন্তু প্রসিদ্ধ সাত কেরাত, রাসূল একটি অথচ প্রসিদ্ধ হাদিসের কিতাব ৬টি, ফকীহদের নিকট এই ছয়টি কিতাব থেকেও গুরুত্বপূর্ণ কিতাব আছে। হাদিসের কিতাব তো একটি হওয়া উচিত কোরআন তো একটি কিতারাত হওয়ার কথা।
এত মতানৈক্য কেন?
তার মানে এখানে কোন যৌক্তিক রহস্য আছে। আলোচনা লম্বা হবে তাই এই বিষয় পরে আলাপ হবে ইনশা আল্লাহ।
✓ দুই) এই বিভ্রান্তি তৈরীর মূল কারণ হলো দুইটি শব্দ 'ইসলাম আর মাযহাবের' মাঝে পার্থক্য না জানার।
#ইসলাম এর সংজ্ঞা হলো যেটা অকাট্য নস দারা প্রমাণিত সেটা এমন স্পষ্ট যার ব্যাখ্যা করা ব্যতীত সহজেই বুঝে আসে। যার মাঝে কোন মতানৈক্য নেই। এই বিষয় কারো গবেষণার প্রয়োজন নেই।
এই বিধান দ্বিমত করা বা অস্বীকারকারী কাফের হয়ে যায়।
যেমন ইসলামের বিষয় আল্লাহ বলেন
ان الدين عند الله الاسلام
অর্থ নিশ্চই আল্লাহর নিকট মনোনীত ধর্ম ইসলাম। (আল ইমরান ১৯)
ومن يبتغ غير الاسلام دينا فلن يقبل منه
যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোন ধর্মকে গ্রহণ করতে চাইবে, তার থেকে সে ধর্ম কবুল করা হবে না। (আল ইমরান ৮৫)
লক্ষ করুন আল্লাহ্ কে মানার কথা যখন বলা হয়
اتبعوا ما انزل اليكم
এখানে আল্লাহ কে মানার কথা বলা হচ্ছে (সূরা আ''রফ ৩)
ব্যাখ্যা:- আল্লাহ যেটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন এখানে অন্য কারো গবেষণা চলবে না।
قل ان كنتم تحبون الله فاتبعوني
এখানে নবী সা. কে মানার কথা বলা হচ্ছে (আল ইমরান ৩১) ব্যাখ্যা:- রাসূল সা. যেটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন এখানে অন্য কারো গবেষণা চলবে না।
#মাযহাব (স্কুল অফ থট) এর সংজ্ঞা হলো যেটা অকাট্য বা জননি নস দারা প্রমাণিত হলেও সেটা অস্পষ্ট, বুঝার জন্য গভীর জ্ঞানের প্রয়োজন, যে কেও বুঝতে পারে না। এই বিষয় বুঝার জন্য এমন পর্যায়ের জ্ঞান অর্জন করতে হয় যা সাধারণ একাডেমিক পড়াশুনা করেও সবার পক্ষে সেই পর্যায়ে যাওয়া কঠিন। এই জন্য ইসলাম বিধান বুঝার জন্য ও আমল করার জন্য মাযহাব আবশ্যক।
এই ধরনের বিধান কে অস্বীকারকারী ফাসেক / পথভ্রষ্ট। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত থেকে বহিষ্কৃত।
✓যেমন মাযহাবের বিষয় আল্লাহ তা''য়ালা বলেন।
ইজমা দলিল
ومن يشاقق الرسول من بعد ما تبين له الهدى ويتبع غير سبيل المؤمنين
আর যে ব্যক্তি তার সামনে হিদায়াত স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পরও রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করবে ও মুমিনদের পথ ছাড়া অন্য কোনও পথ অনুসরণ করবে।
ব্যাখ্যা:- এখানে মুমিনদের কথা মানতে বলেছেন। আরেকটু গভীর দৃষ্টি দিলে দেখা যায় আল্লাহ আল্লাহর রাসূলকে মানার কথা যখন বলা হয়েছে তখন ''সাবীল'' শব্দটি আসে নাই কিন্তু এইখানে এসেছে। ''সাবীল'' এবং "মাযহাব" একই অর্থ পথ। কোরআনের ভাষা ''সাবীল'' আর ফকীহদের ভাষা "মাযহাব" শাস্ত্র ভিন্ন হওয়ার কারণে শব্দ ভিন্ন হয়েছে। কিন্তু অর্থ একই।
✓একটি মাযহাব মানার দলিল
واتبع سبيل من اناب الي
এমন ব্যক্তির পথ অবলম্বন কর, যে একান্তভাবে আমার (আল্লাহর) অভিমুখী হয়েছে। (সূরা লোকমান ১৫)
এখানে ও ''সাবীল'' শব্দটি এসেছে।
এখানে বিশেষভাবে লক্ষ্য করুন। মাযহাব চারটি কেন? অনেক উত্তর আছে।
যেমন
কুরআনে এমন শব্দ ব্যবহার হয়েছে সেটা একাধিক অর্থ বহন করে। কোরআনের কিছু শব্দ অনেক গভীর অর্থ বহন করে আবার একই শব্দের অনেকগুলো অর্থ হয়। সেজন্য একাধিক মাযহাব হয়েছে।
ইসলামের প্রথম যুগে মোহাম্মদ (ﷺ) যেহেতু নবী ছিলেন যেকোনো সমস্যা ওনার কাছে সমাধান নিতেন সাহাবারা রাযিআল্লাহু তা'আলা আনহুম।
উনি থাকা অবস্থায় গবেষণার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের কিছু নিয়ম দেখিয়ে গিয়েছেন।
যেমন:- একবার আল্লাহর রাসূল (ﷺ) একটি প্রতিনিধি দল পাঠিয়ে দিলেন অমুক জায়গায় গিয়ে আসরের সালাত আদায় করবে! পথিমধ্যেও আসরের নামাজের সময় হয়ে যায়, কিছু সাহাবী তাৎক্ষণিক নামাজ পড়ে নেন এই গবেষণা করে নামাজ আল্লাহর বিধান। কিছু মানুষ গবেষণা করে বলেন রাসুলের যেটা নির্দেশ ছিল সেটাই আমরা ফলো করবো।
উভয় দল ফিরে এসে আল্লাহর রাসূলকে পূর্ণ ঘটনা শুনালে আল্লাহ রাসুল বলেন উভয়টাই সঠিক, কিন্তু যে সময় মত নামাজ পড়ে নিয়েছে সে বেশি সঠিক।
বিশেষ দ্রষ্টব্য:- বোঝা গেল শাব্দিক অর্থ কখনো বিবেচনায় আমল করতে হয় আবার কখনো মর্ম বুঝে আমল করতে হয়।
দুনিয়া থেকে নবী বিদায় নেওয়ার পরে প্রতি অঞ্চলে একটি করে মুজদাহিদ ছিল মাযহাব অনেকগুলো ছিল। ৪০০ হিজরীতে যখন দেখা গেল একশত উপরে মাযহাব চলে এসেছে অনেক মাযহাব ডকুমেন্ট সংকলন করা হয়নি। তাই ইজমার ভিত্তিতে গবেষণার মাধ্যমে চারটি মাজহাব প্রতিষ্ঠিত করা হলো।
ইজমাটি হল মাযহাব প্রণেতা এবং শরীয়তের সকল মূলনীতি এবং সাখাগত দিক।
[জ্ঞানের সাগর সানাউল্লাহ পানিপতি ও শাহ ওলি উল্লাহ মুহাদ্দেসে দেহলবী]
সমাধান:-
এখন যদি মাযহাব না মানা হয় সকলের জন্য ইসলাম মানা কঠিন হয়ে যাবে, এবং মানুষ অনেক বিপথগামী হবে, যেমন ডাক্তার না হয়েও চিকিৎসা করা। আপনারা একটু ভাবুন:- আল্লাহ ইসলাম ধর্মকে সহজ করেছেন সারা পৃথিবীতে চার ভাগের তিন ভাগ ইসলাম সম্বন্ধে গভীর জ্ঞান নেই। তার মাঝে আবার অনেক সংখ্যক লোক পড়াশোনাও জানে না। এখন তাদেরকে যদি বলা হয় তুমি কোরআন হাদিস থেকে মাসআলা বের করে আমল করো সেটা তার পক্ষে অসম্ভব। আবার এখনো যদি চারটা মাজহাব নির্দিষ্ট না করা হতো একেক জন একেকটি মাযহাব তৈরি করে ফেলত। চারটি মাযহাব সীমাবদ্ধতার কারণ হলো যে কেউ চাইলে মাযহাব আবিষ্কার করে মানুষকে ধোকা দিতে পারবে না।
এবং যারা এই চারটি মাযহাবের প্রণেতা ছিলেন তারা এতটাই দক্ষ ছিলেন পূর্ণ শরীয়ত মূলনীতি এবং শাখা গত সংকলন করেছেন।
তারা হলেন
১) ইমাম আজম আবু হানিফা নোমান ইবনে সাবিদ কুফি মৃত্যু ১৫০ হি.
২) ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মালেক ইবনে আনাস ইবনে মালেক আল-আসবাহী মৃত্যু ১৭৯ হি.
৩) ইমাম আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইদরিস আশ-শাফেয়ী মৃত্যু ২০৪ হি.
৪) ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাম্বল আয-যুহলী আশ-শায়বানী মৃত্যু ২৪১ হি.
যেটা ওনার ছাত্রের মাধ্যমে আমাদের নিকট পৌঁছেছে। বাকি মাজহাব গুলো সংকলন না হওয়ায় এবং যোগ্য ব্যক্তির বিচার যথাযথ না পাওয়ার কারণে চারটি মাযহাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। চারটি মাযহাব হল
1) হানাফী 2) মালেকী 3) শাফি 4) হাম্বলী।
•কেও বলেন মাযহাব মানা লাগবে কেও বলেন লাগবে না, আসুন কোরআন হাদিস থেকে সঠিক তথ্য জেনে নেই।
•যারা বলেন মাযহাব মানা দরকার নাই, তাদের যুক্তি কোরআন একটি রাসূল একজন মাযহাব কেন একাধিক হবে? এটা উম্মতের ভিতর বিভক্তি সৃষ্টি করে।
✓উনাদের এই দাবির উত্তর দুই ভাবে দেওয়া যায়।
* এক) কোরআন একটি কিন্তু প্রসিদ্ধ সাত কেরাত, রাসূল একটি অথচ প্রসিদ্ধ হাদিসের কিতাব ৬টি, ফকীহদের নিকট এই ছয়টি কিতাব থেকেও গুরুত্বপূর্ণ কিতাব আছে। হাদিসের কিতাব তো একটি হওয়া উচিত কোরআন তো একটি কিতারাত হওয়ার কথা।
এত মতানৈক্য কেন?
তার মানে এখানে কোন যৌক্তিক রহস্য আছে। আলোচনা লম্বা হবে তাই এই বিষয় পরে আলাপ হবে ইনশা আল্লাহ।
✓ দুই) এই বিভ্রান্তি তৈরীর মূল কারণ হলো দুইটি শব্দ 'ইসলাম আর মাযহাবের' মাঝে পার্থক্য না জানার।
#ইসলাম এর সংজ্ঞা হলো যেটা অকাট্য নস দারা প্রমাণিত সেটা এমন স্পষ্ট যার ব্যাখ্যা করা ব্যতীত সহজেই বুঝে আসে। যার মাঝে কোন মতানৈক্য নেই। এই বিষয় কারো গবেষণার প্রয়োজন নেই।
এই বিধান দ্বিমত করা বা অস্বীকারকারী কাফের হয়ে যায়।
যেমন ইসলামের বিষয় আল্লাহ বলেন
ان الدين عند الله الاسلام
অর্থ নিশ্চই আল্লাহর নিকট মনোনীত ধর্ম ইসলাম। (আল ইমরান ১৯)
ومن يبتغ غير الاسلام دينا فلن يقبل منه
যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোন ধর্মকে গ্রহণ করতে চাইবে, তার থেকে সে ধর্ম কবুল করা হবে না। (আল ইমরান ৮৫)
লক্ষ করুন আল্লাহ্ কে মানার কথা যখন বলা হয়
اتبعوا ما انزل اليكم
এখানে আল্লাহ কে মানার কথা বলা হচ্ছে (সূরা আ''রফ ৩)
ব্যাখ্যা:- আল্লাহ যেটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন এখানে অন্য কারো গবেষণা চলবে না।
قل ان كنتم تحبون الله فاتبعوني
এখানে নবী সা. কে মানার কথা বলা হচ্ছে (আল ইমরান ৩১) ব্যাখ্যা:- রাসূল সা. যেটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন এখানে অন্য কারো গবেষণা চলবে না।
#মাযহাব (স্কুল অফ থট) এর সংজ্ঞা হলো যেটা অকাট্য বা জননি নস দারা প্রমাণিত হলেও সেটা অস্পষ্ট, বুঝার জন্য গভীর জ্ঞানের প্রয়োজন, যে কেও বুঝতে পারে না। এই বিষয় বুঝার জন্য এমন পর্যায়ের জ্ঞান অর্জন করতে হয় যা সাধারণ একাডেমিক পড়াশুনা করেও সবার পক্ষে সেই পর্যায়ে যাওয়া কঠিন। এই জন্য ইসলাম বিধান বুঝার জন্য ও আমল করার জন্য মাযহাব আবশ্যক।
এই ধরনের বিধান কে অস্বীকারকারী ফাসেক / পথভ্রষ্ট। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত থেকে বহিষ্কৃত।
✓যেমন মাযহাবের বিষয় আল্লাহ তা''য়ালা বলেন।
ইজমা দলিল
ومن يشاقق الرسول من بعد ما تبين له الهدى ويتبع غير سبيل المؤمنين
আর যে ব্যক্তি তার সামনে হিদায়াত স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পরও রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করবে ও মুমিনদের পথ ছাড়া অন্য কোনও পথ অনুসরণ করবে।
ব্যাখ্যা:- এখানে মুমিনদের কথা মানতে বলেছেন। আরেকটু গভীর দৃষ্টি দিলে দেখা যায় আল্লাহ আল্লাহর রাসূলকে মানার কথা যখন বলা হয়েছে তখন ''সাবীল'' শব্দটি আসে নাই কিন্তু এইখানে এসেছে। ''সাবীল'' এবং "মাযহাব" একই অর্থ পথ। কোরআনের ভাষা ''সাবীল'' আর ফকীহদের ভাষা "মাযহাব" শাস্ত্র ভিন্ন হওয়ার কারণে শব্দ ভিন্ন হয়েছে। কিন্তু অর্থ একই।
✓একটি মাযহাব মানার দলিল
واتبع سبيل من اناب الي
এমন ব্যক্তির পথ অবলম্বন কর, যে একান্তভাবে আমার (আল্লাহর) অভিমুখী হয়েছে। (সূরা লোকমান ১৫)
এখানে ও ''সাবীল'' শব্দটি এসেছে।
এখানে বিশেষভাবে লক্ষ্য করুন। মাযহাব চারটি কেন? অনেক উত্তর আছে।
যেমন
কুরআনে এমন শব্দ ব্যবহার হয়েছে সেটা একাধিক অর্থ বহন করে। কোরআনের কিছু শব্দ অনেক গভীর অর্থ বহন করে আবার একই শব্দের অনেকগুলো অর্থ হয়। সেজন্য একাধিক মাযহাব হয়েছে।
ইসলামের প্রথম যুগে মোহাম্মদ (ﷺ) যেহেতু নবী ছিলেন যেকোনো সমস্যা ওনার কাছে সমাধান নিতেন সাহাবারা রাযিআল্লাহু তা'আলা আনহুম।
উনি থাকা অবস্থায় গবেষণার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের কিছু নিয়ম দেখিয়ে গিয়েছেন।
যেমন:- একবার আল্লাহর রাসূল (ﷺ) একটি প্রতিনিধি দল পাঠিয়ে দিলেন অমুক জায়গায় গিয়ে আসরের সালাত আদায় করবে! পথিমধ্যেও আসরের নামাজের সময় হয়ে যায়, কিছু সাহাবী তাৎক্ষণিক নামাজ পড়ে নেন এই গবেষণা করে নামাজ আল্লাহর বিধান। কিছু মানুষ গবেষণা করে বলেন রাসুলের যেটা নির্দেশ ছিল সেটাই আমরা ফলো করবো।
উভয় দল ফিরে এসে আল্লাহর রাসূলকে পূর্ণ ঘটনা শুনালে আল্লাহ রাসুল বলেন উভয়টাই সঠিক, কিন্তু যে সময় মত নামাজ পড়ে নিয়েছে সে বেশি সঠিক।
বিশেষ দ্রষ্টব্য:- বোঝা গেল শাব্দিক অর্থ কখনো বিবেচনায় আমল করতে হয় আবার কখনো মর্ম বুঝে আমল করতে হয়।
দুনিয়া থেকে নবী বিদায় নেওয়ার পরে প্রতি অঞ্চলে একটি করে মুজদাহিদ ছিল মাযহাব অনেকগুলো ছিল। ৪০০ হিজরীতে যখন দেখা গেল একশত উপরে মাযহাব চলে এসেছে অনেক মাযহাব ডকুমেন্ট সংকলন করা হয়নি। তাই ইজমার ভিত্তিতে গবেষণার মাধ্যমে চারটি মাজহাব প্রতিষ্ঠিত করা হলো।
ইজমাটি হল মাযহাব প্রণেতা এবং শরীয়তের সকল মূলনীতি এবং সাখাগত দিক।
[জ্ঞানের সাগর সানাউল্লাহ পানিপতি ও শাহ ওলি উল্লাহ মুহাদ্দেসে দেহলবী]
সমাধান:-
এখন যদি মাযহাব না মানা হয় সকলের জন্য ইসলাম মানা কঠিন হয়ে যাবে, এবং মানুষ অনেক বিপথগামী হবে, যেমন ডাক্তার না হয়েও চিকিৎসা করা। আপনারা একটু ভাবুন:- আল্লাহ ইসলাম ধর্মকে সহজ করেছেন সারা পৃথিবীতে চার ভাগের তিন ভাগ ইসলাম সম্বন্ধে গভীর জ্ঞান নেই। তার মাঝে আবার অনেক সংখ্যক লোক পড়াশোনাও জানে না। এখন তাদেরকে যদি বলা হয় তুমি কোরআন হাদিস থেকে মাসআলা বের করে আমল করো সেটা তার পক্ষে অসম্ভব। আবার এখনো যদি চারটা মাজহাব নির্দিষ্ট না করা হতো একেক জন একেকটি মাযহাব তৈরি করে ফেলত। চারটি মাযহাব সীমাবদ্ধতার কারণ হলো যে কেউ চাইলে মাযহাব আবিষ্কার করে মানুষকে ধোকা দিতে পারবে না।
এবং যারা এই চারটি মাযহাবের প্রণেতা ছিলেন তারা এতটাই দক্ষ ছিলেন পূর্ণ শরীয়ত মূলনীতি এবং শাখা গত সংকলন করেছেন।
তারা হলেন
১) ইমাম আজম আবু হানিফা নোমান ইবনে সাবিদ কুফি মৃত্যু ১৫০ হি.
২) ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মালেক ইবনে আনাস ইবনে মালেক আল-আসবাহী মৃত্যু ১৭৯ হি.
৩) ইমাম আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইদরিস আশ-শাফেয়ী মৃত্যু ২০৪ হি.
৪) ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাম্বল আয-যুহলী আশ-শায়বানী মৃত্যু ২৪১ হি.
যেটা ওনার ছাত্রের মাধ্যমে আমাদের নিকট পৌঁছেছে। বাকি মাজহাব গুলো সংকলন না হওয়ায় এবং যোগ্য ব্যক্তির বিচার যথাযথ না পাওয়ার কারণে চারটি মাযহাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। চারটি মাযহাব হল
1) হানাফী 2) মালেকী 3) শাফি 4) হাম্বলী।