আসসালামুয়ালাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ
আমার একটা অস্পষ্ট বিষয় সমাধান করে পেতে চাচ্ছি ;
Homosexuality বা সমকামিতা ইহুদি মূলধারার খ্রিস্টান ও ইসলাম ধর্মে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ এবং আমরা একে ফিতরাহ বা প্রকৃতি বিরুদ্ধ কাজ ও মানসিক বিকৃতি হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে থাকি, সেই হিসেবে সৃষ্টি জগতের কোথাও এর উদাহরণ থাকার কথা না কেননা প্রকৃতি আল্লাহর হুকুম মেনে চলে আল্লাহর বেঁধে দেয়া নিয়মে চলে, এই কাজের একমাত্র কর্তা মানুষেরই হওয়ার কথা যাকে আল্লাহ পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা দিয়েছেন নিজের কাজ নিজে নির্বাচন করার জন্যে, এবং আল্লাহ তাআলার সৃষ্ট জগতের কোথাও এর নজির থাকার কথা না, যদি থেকেই থাকে তাহলে তো তাকে বিকৃতি বলা যাবে না কেননা তখন তো মানুষ নিজে আর এই কাজের উদ্ভাবন করলো না যেহেতু প্রকৃতিতেই এর উদাহরণ রয়েছে ,
কিন্তু প্রাণীবিদ্যার বিভিন্ন গবেষণায় দাবি করা হচ্ছে প্রাণীদের মধ্যে homosexual আচরণ অত্যন্ত স্বাভাবিক একটা বিষয় , এমনকি জিরাফ ভেড়া ও অন্যান্য বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে সমকামী যৌন সঙ্গম অত্যন্ত স্বাভাবিক একটা বিষয় !
অনুগ্রহপূর্বক এ বিষয়টা নিয়ে যদি আলোচনা করেন তাহলে খুবই উপকার হবে । Jazakalllah
ওয়ালাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।
আপনার প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে একটি মৌলিক বিষয় পরিষ্কার করা দরকার।
প্রথমত, কোনো কিছু মানুষের ফিতরাত (স্বভাবগত প্রকৃতি) হওয়ার অর্থ এই নয় যে, তার বিপরীত কোনো আচরণ কখনোই ঘটবে না। বরং ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী মানুষের ফিতরাত বিভিন্ন কারণে বিকৃত বা কলুষিত হতে পারে। তখন মানুষ তার স্বাভাবিক ফিতরাতের বিপরীত কাজও করতে পারে।
এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
"প্রতিটি নবজাতকই ফিতরাতের উপর জন্মগ্রহণ করে। এরপর তার পিতামাতা তাকে ইয়াহুদী, নাসারা বা অগ্নিপূজারী বানিয়ে তোলে। যেমন, চতুষ্পদ পশু একটি পূর্ণাঙ্গ বাচ্চা জন্ম দেয়। তোমরা কি তাদের মধ্যে কোনো (জন্মগত) কানকাটা দেখতে পাও?"
এরপর আবু হুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তিলাওয়াত করেন:
﴿فِطْرَتَ اللَّهِ الَّتِي فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا ۚ لَا تَبْدِيلَ لِخَلْقِ اللَّهِ﴾
"আল্লাহর দেওয়া ফিতরাতের অনুসরণ কর, যে ফিতরাতের উপর তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন..."
এই হাদীস থেকে বোঝা যায়, মানুষ জন্মগতভাবে ফিতরাতের উপর জন্ম নিলেও সামাজিক, পারিবারিক, সাংস্কৃতিক ও পারিপার্শ্বিক প্রভাবের কারণে সে সেই ফিতরাত থেকে বিচ্যুত হতে পারে। অর্থাৎ, ফিতরাত একটি স্বাভাবিক প্রবণতা; কিন্তু মানুষ সবসময় সেই প্রবণতা অনুযায়ী জীবনযাপন করবে—এমনটি আবশ্যক নয়।
এখন প্রাণীদের প্রসঙ্গে আসি।
প্রাণীদের মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে সমলিঙ্গীয় যৌন আচরণ (same-sex sexual behavior) পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে—এটি প্রাণীবিদ্যার গবেষণায় উল্লেখ আছে। কিন্তু এটিও "ফিতরাতের বিপরীত আচরণ কখনোই ঘটতে পারে না"—এমন কোনো প্রমাণ নয়। বরং এটি কেবল দেখায় যে, কিছু প্রাণীর মধ্যে এমন আচরণ ঘটতে পারে। ইসলামে কোথাও বলা হয়নি যে, ফিতরাতবিরোধী কোনো আচরণ সৃষ্টিজগতের কোথাও কখনো দেখা যাবে না।
বরং আপনার যুক্তির অন্তর্নিহিত পূর্বধারণাটিই প্রমাণিত নয়। আপনি ধরে নিয়েছেন—
"যা ফিতরাতবিরোধী, তা মানুষ বা প্রাণীদের মধ্যে কখনো ঘটবে না।"
কিন্তু ইসলাম এমন কোনো দাবি করে না।
উল্টো হাদীস থেকে জানা যায়, মানুষ ফিতরাত থেকে বিচ্যুত হতে পারে।
একইভাবে প্রাণীদের আচরণও মানুষের নৈতিকতার মানদণ্ড নয়। প্রকৃতিতে সন্তান হত্যা, নরখাদন, জোরপূর্বক মিলনসহ নানা আচরণ দেখা যায়। কিন্তু এসব আচরণ প্রকৃতিতে আছে বলেই সেগুলো মানুষের জন্য স্বাভাবিক বা নৈতিক হয়ে যায় না।
অতএব, প্রাণীদের মধ্যে কিছু সমলিঙ্গীয় আচরণ দেখা যাওয়া থেকে এই সিদ্ধান্ত আসে না যে, সমকামিতা মানুষের ফিতরাতের বিরুধী নয়। বরং, ইসলামের দৃষ্টিতে মানুষের ফিতরাত হলো নারী-পুরুষের বৈবাহিক সম্পর্ক ও বংশবিস্তারমুখী স্বাভাবিক প্রবণতা। আর মানুষ সেই ফিতরাত থেকে বিভিন্ন কারণে বিচ্যুত হতে পারে—এ কথাই হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।